টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আরিফ হোসেন বদলি হওয়ার পরও নতুন প্রকৌশলীকে দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে, নতুন যোগদানকারী প্রকৌশলী মো. সানোয়ার হোসেন দায়িত্ব না পেয়ে হতবাক। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি কালিহাতীতে কোনো ‘মধু’ রয়েছে যে প্রকৌশলীরা বদলির আদেশ মানতে চাইছেন না?
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রকৌশলী আরিফ হোসেনকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বদলি করা হয় এবং তার স্থলে ভূঞাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সানোয়ার হোসেনকে কালিহাতীতে বদলি করা হয়। গত ১২ এপ্রিল মো. সানোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যোগদান করেন। যদিও আরিফ হোসেন ১৩ এপ্রিল চকরিয়া উপজেলায় যোগদান করেছেন, কিন্তু তিনি এখনো কালিহাতীর দায়িত্ব নতুন প্রকৌশলীকে বুঝিয়ে দিতে টালবাহানা করছেন। এর ফলে অফিসের দাপ্তরিক কাজ এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী আরিফ হোসেন চলতি অর্থ-বছরে কালিহাতী পারখী সড়কের ৪০০০ মিটার সার্পোটিং ব্রীজ প্রকল্পের কাজ ‘তরফদার এন্টারপ্রাইজ’কে পাইয়ে দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ মিটার ব্রীজ নির্মাণ করেই ওই ঠিকাদারকে ৬২ লাখ টাকা অগ্রীম বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়াও, সুরুজ ধলাপাড়া সড়কে কার্পেটিং করার পরপরই দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা কাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, বদলি আদেশ হওয়ার পর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। কিন্তু দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশের পদোন্নতির কারণে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে কিছুটা সময় নিচ্ছেন। তিনি সরে গেলেই তিনি কালিহাতীর দায়িত্ব নতুন প্রকৌশলীকে বুঝিয়ে দেবেন। তিনি ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলীর যোগদান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে এই জটিলতা নিরসন হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























