রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও মানসিক চাপযুক্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার কারণে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাহিনীর ভেতরে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং সহকর্মীকে গুলির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এই ‘নীরব মানসিক স্বাস্থ্য সংকট’ এখন জননিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সহিংসতা সদস্যদের মধ্যে গভীর ট্রমা এবং ‘সারভাইভারস গিল্ট’ বা অপরাধবোধ তৈরি করেছে, যা তাদের মানসিক অবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এই মানসিক বিপর্যয়ের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত কারণ দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন কর্মকর্তা তার কর্মজীবনে গড়ে ১৭৮টি অত্যন্ত সংকটময় বা ট্রমাটিক ঘটনার মোকাবিলা করেন, যা তাদের মধ্যে পুঞ্জীভূত মানসিক আঘাত তৈরি করে। এর পাশাপাশি প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ডিউটি এবং ঘুমের তীব্র অভাব সরাসরি মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে আবেগীয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এমিল ডুরখেইমের ‘ফ্যাটালিস্টিক সুইসাইড’ তত্ত্ব অনুযায়ী, অতি-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক কাঠামো এবং সামাজিক নেতিবাচক সমালোচনা তাদের মধ্যে চরম অসহায়ত্ব ও হীনম্মন্যতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া উৎসব-পার্বণে ছুটি না পাওয়া এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা তাদের মধ্যে গভীর একাকীত্ব তৈরি করে, যা টমাস জয়েনারের তত্ত্ব মতে আত্মঘাতী প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয় এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। বাহিনীর প্রায় ৫০ শতাংশ সদস্য মনে করেন যে মানসিক সহায়তা চাওয়াকে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখা হয়, যার ফলে তারা পেশাদার সাহায্য নিতে দ্বিধাবোধ করেন। অথচ পাশ্চাত্য বিশ্বে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানসিক স্বাস্থ্যকে পেশাগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখা হয়। সেখানে বাধ্যতামূলক মেন্টাল হেলথ চেক-আপ, ‘ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট স্ট্রেস ডি-ব্রিফিং’ (CISD), এবং সহকর্মীভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রমের মতো আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশেও যদি পরিবারের সাথে সময় কাটানোর নিশ্চয়তা, কর্মঘণ্টার সুষম বণ্টন এবং নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই বাহিনীর সদস্যদের মানসিক অস্থিরতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে একটি কার্যকর ও পেশাদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও মানসিক চাপযুক্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার কারণে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাহিনীর ভেতরে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং সহকর্মীকে গুলির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এই ‘নীরব মানসিক স্বাস্থ্য সংকট’ এখন জননিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সহিংসতা সদস্যদের মধ্যে গভীর ট্রমা এবং ‘সারভাইভারস গিল্ট’ বা অপরাধবোধ তৈরি করেছে, যা তাদের মানসিক অবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এই মানসিক বিপর্যয়ের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত কারণ দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন কর্মকর্তা তার কর্মজীবনে গড়ে ১৭৮টি অত্যন্ত সংকটময় বা ট্রমাটিক ঘটনার মোকাবিলা করেন, যা তাদের মধ্যে পুঞ্জীভূত মানসিক আঘাত তৈরি করে। এর পাশাপাশি প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ডিউটি এবং ঘুমের তীব্র অভাব সরাসরি মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে আবেগীয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এমিল ডুরখেইমের ‘ফ্যাটালিস্টিক সুইসাইড’ তত্ত্ব অনুযায়ী, অতি-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক কাঠামো এবং সামাজিক নেতিবাচক সমালোচনা তাদের মধ্যে চরম অসহায়ত্ব ও হীনম্মন্যতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া উৎসব-পার্বণে ছুটি না পাওয়া এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা তাদের মধ্যে গভীর একাকীত্ব তৈরি করে, যা টমাস জয়েনারের তত্ত্ব মতে আত্মঘাতী প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয় এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। বাহিনীর প্রায় ৫০ শতাংশ সদস্য মনে করেন যে মানসিক সহায়তা চাওয়াকে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখা হয়, যার ফলে তারা পেশাদার সাহায্য নিতে দ্বিধাবোধ করেন। অথচ পাশ্চাত্য বিশ্বে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানসিক স্বাস্থ্যকে পেশাগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখা হয়। সেখানে বাধ্যতামূলক মেন্টাল হেলথ চেক-আপ, ‘ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট স্ট্রেস ডি-ব্রিফিং’ (CISD), এবং সহকর্মীভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রমের মতো আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশেও যদি পরিবারের সাথে সময় কাটানোর নিশ্চয়তা, কর্মঘণ্টার সুষম বণ্টন এবং নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই বাহিনীর সদস্যদের মানসিক অস্থিরতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে একটি কার্যকর ও পেশাদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























