বায়ুদূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফলে দেশে বক্ষব্যাধি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ঘরের ভেতর মশার কয়েল, স্প্রে এবং বাইরের ধুলোবালি ও গাড়ির ধোঁয়া অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ১৫ দিনের বেশি কাশি থাকলে বা কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলো বক্ষব্যাধির প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।
অ্যাজমা এবং সিওপিডি—এই দুই ধরনের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অ্যাজমা বা হাঁপানি সাধারণত শ্বাসনালি সাময়িকভাবে সংকুচিত হওয়ার কারণে হয়, যা সঠিক চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অন্যদিকে, সিওপিডি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যা মূলত অতিরিক্ত ধূমপানের কারণে হয়ে থাকে এবং এতে শ্বাসনালির স্থায়ী ক্ষতি হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, শিল্পকারখানার ধোঁয়া এবং ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ অ্যাজমার প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
তবে গ্রামাঞ্চলে বক্ষব্যাধি নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে উন্নত এক্স-রে মেশিন এবং কফ পরীক্ষার আধুনিক সরঞ্জামের অভাব থাকায় অনেক রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বক্ষব্যাধি নিয়ন্ত্রণে ধূমপান ত্যাগ করার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একইসঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
রিপোর্টারের নাম 























