দেশে আর কোনোদিন মব (গণপিটুনি) হবে না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন ঘোষণা দেওয়ার পরেও একটির পর একটি মবের ঘটনা ঘটে চলেছে বলে দাবি করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে ৭১-বিধির নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রুমিন ফারহানা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত আছেন। তিনি একবার না, দুইবার না, কয়েক দফা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে বাংলাদেশে আর মবের সংস্কৃতি হবে না। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি হবে না এবং বাংলাদেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম একটির পর একটি জায়গায় মবের ঘটনা ঘটেই চলেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে নানান রকম সংস্কৃতি থাকে—নাচের সংস্কৃতি, গানের সংস্কৃতি, অভিনয়ের সংস্কৃতি, কবিতার সংস্কৃতি। কিন্তু আমাদের দেশে গত দেড় বছর এবং এরপরের গত দুই মাস ধরে মবের সংস্কৃতি দেখলাম।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমরা দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মব করে সরানো হয়েছে। আমরা দেখলাম বাসসের প্রধানকে মব করা হয়েছে। বরিশাল আদালত প্রাঙ্গনে মব হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ল’ইয়ার রুমে মব হয়েছে। চট্টগ্রামে দেড় বছর আগে নাচ ও গানের মাধ্যমে ছিনতাইকারী সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। কিছুদিন আগে কুষ্টিয়ায় একজন কথিত পীরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রীও একই ধরণের কথা বলেছেন। মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখনই এরকম সংস্কৃতি বাড়ে এবং মানুষ এ ধরণের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে যায়। মানুষের মধ্যে হতাশা আছে, ক্ষোভ আছে, তীব্র বৈষম্য আছে এবং সর্বোপরি আছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব। গত দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে মব করে যে লোকটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল, তার বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও দেশে মবের ঘটনা অব্যাহত থাকার বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 























