ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

দেড় ঘণ্টার এই দুধের হাটে প্রতিদিন লাখ টাকার বেচাকেনা

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় এক জমজমাট দুধের হাট। মাত্র দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এই বাজারে খামারি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার দুধ কেনাবেচা হয়। মাস শেষে এই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকায় পৌঁছে যায়।

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হক মেডিকেলের সামনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এই হাট বসে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের খামারিরা তাদের উৎপাদিত দুধ নিয়ে বাজারে আসেন। প্রতিদিন এখানে প্রায় ছয় থেকে আট হাজার লিটার দুধ বিক্রি হয়। দুধের মান অনুযায়ী প্রতি কেজির দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে থাকে। ফলে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, লালমাই উপজেলায় বর্তমানে ৫২৯টি দুধের খামার রয়েছে। এসব খামারের উৎপাদিত দুধের একটি বড় অংশ বাগমারা হাটে বিক্রি হয়, যা এই এলাকার দুগ্ধ খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সকালে হাটে গিয়ে দেখা যায়, খামারিরা সাইকেল, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে বিভিন্ন পাত্রে দুধ নিয়ে আসছেন। বাজারে পৌঁছানোর পরপরই পাইকাররা দুধ সংগ্রহের জন্য খামারিদের ঘিরে ধরেন। ভালো মানের দুধ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে অনেক সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা যায়, যা বাজারকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। নোয়াপাড়া গ্রামের খামারি ফজলুল হক জানান, তার দুটি গরু রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১৫ লিটার দুধ পান। এই দুধ বিক্রি করে তিনি পরিবারের দৈনন্দিন খরচের একটি বড় অংশ নির্বাহ করেন। তার মতো আরো অনেক খামারির জীবিকা এই হাটকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে।

লালমাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘লালমাই উপজেলায় প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দুধ উৎপাদিত হয়। বাগমারা দুধের হাট এই দুধ বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নগর বাউলের লাইনআপে পরিবর্তন: রানা বিদায় নিলেন, যোগ দিলেন এলিন

দেড় ঘণ্টার এই দুধের হাটে প্রতিদিন লাখ টাকার বেচাকেনা

আপডেট সময় : ১১:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় এক জমজমাট দুধের হাট। মাত্র দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এই বাজারে খামারি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার দুধ কেনাবেচা হয়। মাস শেষে এই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকায় পৌঁছে যায়।

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হক মেডিকেলের সামনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এই হাট বসে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের খামারিরা তাদের উৎপাদিত দুধ নিয়ে বাজারে আসেন। প্রতিদিন এখানে প্রায় ছয় থেকে আট হাজার লিটার দুধ বিক্রি হয়। দুধের মান অনুযায়ী প্রতি কেজির দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে থাকে। ফলে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, লালমাই উপজেলায় বর্তমানে ৫২৯টি দুধের খামার রয়েছে। এসব খামারের উৎপাদিত দুধের একটি বড় অংশ বাগমারা হাটে বিক্রি হয়, যা এই এলাকার দুগ্ধ খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সকালে হাটে গিয়ে দেখা যায়, খামারিরা সাইকেল, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে বিভিন্ন পাত্রে দুধ নিয়ে আসছেন। বাজারে পৌঁছানোর পরপরই পাইকাররা দুধ সংগ্রহের জন্য খামারিদের ঘিরে ধরেন। ভালো মানের দুধ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে অনেক সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা যায়, যা বাজারকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। নোয়াপাড়া গ্রামের খামারি ফজলুল হক জানান, তার দুটি গরু রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১৫ লিটার দুধ পান। এই দুধ বিক্রি করে তিনি পরিবারের দৈনন্দিন খরচের একটি বড় অংশ নির্বাহ করেন। তার মতো আরো অনেক খামারির জীবিকা এই হাটকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে।

লালমাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘লালমাই উপজেলায় প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দুধ উৎপাদিত হয়। বাগমারা দুধের হাট এই দুধ বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’