বিগত এপ্রিল মাসে মহাকাশ বিজ্ঞান জগতে এক নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী পর মানুষের মহাকাশযান আবারও চাঁদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের অংশ হিসেবে চারজন নভোচারী – রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন – চাঁদের চারপাশ ঘুরে এসে মানবজাতির মহাকাশ অনুসন্ধানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। এই অভিযানটি ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো মানুষকে চাঁদের এত কাছাকাছি নিয়ে গেছে, যা বিজ্ঞানমনস্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।
দশ দিনের এই মহাকাশ ভ্রমণটি পহেলা এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯ বি থেকে শুরু হয়েছিল। শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটের সাহায্যে ওরিয়ন ক্যাপসুল, যার ডাক নাম ছিল ‘ইন্টেগ্রিটি’, নভোচারীদের নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ৩২২.৪ ফুট লম্বা এসএলএস রকেট উৎক্ষেপণের সময় ৮.৮ মিলিয়ন পাউন্ড শক্তি উৎপন্ন করেছিল, যা এই মিশনের বিশালতারই পরিচায়ক।
১০ এপ্রিল, দশ দিনের সফল চন্দ্রাভিযান শেষে নভোচারীরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন। চাঁদ থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশকালে ওরিয়ন ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৮শ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে, ক্যাপসুলের শক্তিশালী হিট শিল্ড এই চরম তাপমাত্রা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। অবতরণের চূড়ান্ত ধাপে তিনটি বিশাল প্যারাসুট ব্যবহার করে মহাকাশযানের গতি কমিয়ে আনা হয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলের প্রশান্ত মহাসাগরের নীল পানিতে এটি সফলভাবে অবতরণ বা ‘স্প্ল্যাশডাউন’ করে। পরবর্তীতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস জন পি ‘মুরথা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নভোচারী এবং মহাকাশযানকে উদ্ধার করে আনে।
এই রোমাঞ্চকর মিশনে চার নভোচারী চাঁদের ভূ-তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ, মহাকাশ বিকিরণের প্রভাব পরীক্ষা এবং ওরিয়ন মহাকাশযানের কার্যকারিতা যাচাই সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই অভিযান গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার (২ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৯ মাইল) দূরত্বে পৌঁছেছিলেন, যা মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দূরত্ব।
রিপোর্টারের নাম 

























