দেশের বিশাল শিশু জনগোষ্ঠীকে সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দিতে আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এই বৃহৎ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ শিশু। সোমবার সকাল ৮টা থেকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে নির্ধারিত ২ লাখ ৮২ হাজার ৫১০টি টিকাদান কেন্দ্রে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়। বিশেষ এই ক্যাম্পেইনের আওতায় কেবল স্থায়ী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, বরং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি ওয়ার্ডেও টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যাতে দুর্গম ও প্রান্তিক অঞ্চলের কোনো শিশু এই সুরক্ষার আওতা থেকে বাদ না পড়ে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচির প্রথম দিনেই প্রায় ১১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুশৃঙ্খলভাবে এই বিশাল সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। উল্লেখ্য যে, পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী এই ক্যাম্পেইনটি আগামী ৩ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার সময়সূচি ১৩ দিন এগিয়ে এনে আজ ২০ এপ্রিল থেকেই কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
হাম ও রুবেলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগ প্রতিরোধে এই টিকা অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আগামী তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের বিশাল সংখ্যক শিশুকে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রিপোর্টারের নাম 























