রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরিতে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা ও জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে নৌ পুলিশ।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পাটুরিয়াগামী শাহপরাণ ফেরিতে এই অভিযান চালানো হয়। নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্রটি ‘তিন তাস’ খেলার প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশনায় পাটুরিয়া নৌ থানা ও দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি যৌথ টিম ছদ্মবেশে ফেরিতে ওঠে।
অভিযানে পাটুরিয়া নৌ থানার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক কেএম নজরুল ইসলাম (পিপিএম) এবং দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহার নেতৃত্বে এসআই গোলাম সরোয়ার, এসআই ইয়াকুব হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেয়। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ চারজন পেশাদার জুয়াড়িকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের আরও দুই সহযোগী যাত্রীদের ভিড়ে মিশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন—মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার তেঘুরী এলাকার মো. আকাশ (২৩) ও মো. রাসেল মুন্সি (৩৩), এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার জহির ওরফে জহু ফকির (৪২) ও মো. বাবু ফকির (৩৫)।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। মো. আকাশের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে চারটি মামলা বিচারাধীন। রাসেল মুন্সির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। জহির ওরফে জহু ফকিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে মোট ১০টি মামলা এবং বাবু ফকিরের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত দুটি মামলা বিচারাধীন। এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশ বাদী হয়ে শিবালয় থানায় জুয়া আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে মানিকগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























