ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রামগঞ্জে ৯২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য: শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থবিরতা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১৬১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯২টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো খালি থাকায় সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেমন স্থবিরতা এনেছে, তেমনি পাঠদান কার্যক্রমেও মারাত্মক ব্যাহত করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই ১৬১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৮ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন, আর বাকি ৭৪টি পদে সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। অবসর, বদলি এবং মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই পদগুলো খালি রয়ে গেছে। ২০১৭ সালে ১৮ জন শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব প্রদানের পর থেকে এ উপজেলায় আর কোনো পদোন্নতি হয়নি।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এবং সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পালন করায় একদিকে যেমন প্রশাসনিক দুর্বলতা সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি সহকারী শিক্ষকের পদও খালি থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রায়ই দাপ্তরিক ও সরকারি বিভিন্ন কাজে উপজেলা পর্যায়ে যাতায়াত করতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়াও, অন্য শিক্ষকরা সমমর্যাদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে দ্বিধা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রামগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল বাশার বলেন, প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও, শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক শিক্ষককেই পদোন্নতি ছাড়াই অবসর নিতে হচ্ছে, যা শিক্ষকতার জীবনে খুবই দুঃখজনক। রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, অবসর, বদলি ও মৃত্যুর কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে। এসব শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি বছরই পাঠানো হয়। তবে মামলার জটিলতার কারণে শিক্ষকদের পদোন্নতি হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতি শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ইসরাইলি আগ্রাসন, দক্ষিণ লেবাননে তীব্র গোলাবর্ষণ

রামগঞ্জে ৯২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য: শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থবিরতা

আপডেট সময় : ১২:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১৬১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯২টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো খালি থাকায় সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেমন স্থবিরতা এনেছে, তেমনি পাঠদান কার্যক্রমেও মারাত্মক ব্যাহত করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই ১৬১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৮ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন, আর বাকি ৭৪টি পদে সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। অবসর, বদলি এবং মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই পদগুলো খালি রয়ে গেছে। ২০১৭ সালে ১৮ জন শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব প্রদানের পর থেকে এ উপজেলায় আর কোনো পদোন্নতি হয়নি।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এবং সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পালন করায় একদিকে যেমন প্রশাসনিক দুর্বলতা সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি সহকারী শিক্ষকের পদও খালি থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রায়ই দাপ্তরিক ও সরকারি বিভিন্ন কাজে উপজেলা পর্যায়ে যাতায়াত করতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়াও, অন্য শিক্ষকরা সমমর্যাদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে দ্বিধা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রামগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল বাশার বলেন, প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও, শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক শিক্ষককেই পদোন্নতি ছাড়াই অবসর নিতে হচ্ছে, যা শিক্ষকতার জীবনে খুবই দুঃখজনক। রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, অবসর, বদলি ও মৃত্যুর কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে। এসব শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি বছরই পাঠানো হয়। তবে মামলার জটিলতার কারণে শিক্ষকদের পদোন্নতি হচ্ছে না বলে তিনি জানান।