টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণকারী কবির হোসেনকে প্রকৃত কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। গত বুধবার জেলা প্রশাসক শরীফা হক কৃষি মন্ত্রণালয়কে পাঠানো এক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কৃষক কার্ড নেওয়ার পর কবির হোসেনের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যারা কৃষি অধিদপ্তরসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারুটিয়া গ্রামে কবির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১৩ শতাংশ জমির ওপর তার একটি দোচালা টিনের ঘর রয়েছে। পাশে একটি ছোট রান্নাঘর এবং গোয়ালঘরে তিনটি গরু বাঁধা আছে। বাড়ির পেছনে পাটশাক ও ডাঁটার আবাদ করছেন তিনি, পাশে রয়েছে খড়ের গাদা। কবিরের শোবার ঘরে একটি খাট, পুরোনো আলমারি, ফ্রিজ, একটি টেবিল ও কয়েকটি চেয়ার দেখা গেছে; যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নেওয়া কৃষক কার্ডটিও রাখা আছে।
এই প্রসঙ্গে কৃষক কবির হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চাইছে। তিনি নিজেকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে দাবি করে বলেন, কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি কিছু কন্টেন্ট তৈরি করেও আয় করেন। কবিরের স্ত্রী সেলিনা বেগমও নিশ্চিত করেছেন যে তার স্বামী একজন প্রকৃত কৃষক। তিনি জানান, শ্বশুরের দেওয়া বসতভিটা ছাড়া তাদের আয়ের প্রধান উৎস হলো অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করা। কৃষিকাজের পাশাপাশি ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করে কিছু অতিরিক্ত আয় হয় এবং কিছু এআই ছবি পোস্ট করার কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন কৃষকের ভালো পোশাক পরা কি অপরাধ?
স্থানীয় মাদরাসার সভাপতি মাজেদ তালুকদার (৬৫) কবির হোসেনকে সব সময় কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাবার দেওয়া শ্যালো মেশিন দিয়ে অন্যের জমি আবাদ করে কবির সংসার চালান, যদিও তার নিজের কোনো কৃষিজমি নেই। তারুটিয়া গ্রামের হাবেল মিয়াও কবিরের কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















