ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ট্রাম্পের ‘অভ্যুত্থান দমন’ আইন জারির হুমকিতে বাড়ছে উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করায় বিতর্ক আরও বেড়ে চলেছে। তাঁর সর্বশেষ নির্দেশে, মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) শিকাগোর বাইরে একটি সেনাঘাঁটিতে কয়েকশ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য জড়ো হন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প শহরে আরও সেনা পাঠানোর এবং ইনসারেকশন অ্যাক্ট (অভ্যুত্থান দমন আইন) প্রয়োগ করার হুমকি দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন যে, বহু পুরোনো এই আইনের ক্ষমতা বলে আদালতের বাধা উপেক্ষা করেও সেনা পাঠানো যাবে। যদিও স্থানীয় এবং অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে।

ফেডারেল আইন অনুযায়ী বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা নিষেধ হলেও, ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটাতে পারে। এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সেনারা সরাসরি আইন প্রয়োগের কাজে এবং গ্রেপ্তারে অংশ নিতে পারে। ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত গভর্নরের অধীনে থাকে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাদের মোতায়েন করা হয়। তবে ট্রাম্পের নির্দেশে তাদের ভূমিকা এখন মূলত ফেডারেল সম্পদ রক্ষা করা এবং সাময়িক আটক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইতিমধ্যে এক ফেডারেল বিচারক ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানো সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন, কিন্তু আরেকজন বিচারক শিকাগোতে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে ফেডারেল কর্মকর্তারা অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছেন।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই আইন আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোতে অপরাধের হার অনেক বেশি, আর যদি গভর্নর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, তাহলে তারাই দায়িত্ব নেবেন।

এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা দেয়, তবে এটি সাধারণত রাজ্য গভর্নরদের অনুরোধেই ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে এই আইন প্রয়োগ করেছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা প্রয়োগের আরও একটি উদাহরণ। সম্প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি মার্কিন শহরগুলোকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, যা ডেমোক্র্যাট এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, পোর্টল্যান্ড এবং শিকাগোতে গার্ড পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও মেয়ররা বলছেন, ট্রাম্পের দাবি বাস্তবের সঙ্গে মেলে না।

মঙ্গলবার শিকাগো থেকে প্রায় আশি কিলোমিটার দূরে এলউড শহরে সেনাদের একত্রিত হতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ট্রাম্প যে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের’ কথা বলছেন, বাস্তবে সেরকম কোনো পরিস্থিতি সেখানে নেই।

শিকাগোতে সহিংস অপরাধের হার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে; শহরের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক, রেস্তোরাঁ ও থিয়েটারগুলো বেশ ব্যস্ত, এবং মানুষজন লেকের ধারে ভিড় করছেন।

তবে শহরতলির ব্রডভিউর একটি অভিবাসন কেন্দ্রে ফেডারেল বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়, এতে কয়েকজন আহত হন এবং অন্তত একজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার বলেন, ট্রাম্প তাঁদের রাজ্যের সেনাদের রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং অবৈধভাবে শহরগুলোকে সামরিকীকরণের চেষ্টা করছেন।

ইলিনয় এবং শিকাগো প্রশাসন ইতোমধ্যে ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যাতে ইলিনয়ের তিনশো ও টেক্সাসের চারশো সেনা ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন বন্ধ করা যায়। ফেডারেল বিচারক এপ্রিল পেরি আপাতত মোতায়েন চালু রাখার অনুমতি দিলেও বুধবারের মধ্যে সরকারের বক্তব্য চেয়েছেন।

অন্যদিকে, ওরেগনের এক বিচারক পোর্টল্যান্ডে সেনা পাঠানো স্থগিত রেখেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যদি সত্যিই ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ কার্যকর করেন, তবে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যদিও সর্বোচ্চ আদালত একাধিকবার জানিয়ে দিয়েছে যে আইনটি প্রয়োগের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা একমাত্র প্রেসিডেন্টই নির্ধারণ করতে পারেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের অন্য পেশায় যুক্ত হতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি আবশ্যক: শিক্ষামন্ত্রী

ট্রাম্পের ‘অভ্যুত্থান দমন’ আইন জারির হুমকিতে বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করায় বিতর্ক আরও বেড়ে চলেছে। তাঁর সর্বশেষ নির্দেশে, মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) শিকাগোর বাইরে একটি সেনাঘাঁটিতে কয়েকশ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য জড়ো হন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প শহরে আরও সেনা পাঠানোর এবং ইনসারেকশন অ্যাক্ট (অভ্যুত্থান দমন আইন) প্রয়োগ করার হুমকি দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন যে, বহু পুরোনো এই আইনের ক্ষমতা বলে আদালতের বাধা উপেক্ষা করেও সেনা পাঠানো যাবে। যদিও স্থানীয় এবং অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে।

ফেডারেল আইন অনুযায়ী বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা নিষেধ হলেও, ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটাতে পারে। এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সেনারা সরাসরি আইন প্রয়োগের কাজে এবং গ্রেপ্তারে অংশ নিতে পারে। ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত গভর্নরের অধীনে থাকে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাদের মোতায়েন করা হয়। তবে ট্রাম্পের নির্দেশে তাদের ভূমিকা এখন মূলত ফেডারেল সম্পদ রক্ষা করা এবং সাময়িক আটক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইতিমধ্যে এক ফেডারেল বিচারক ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানো সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন, কিন্তু আরেকজন বিচারক শিকাগোতে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে ফেডারেল কর্মকর্তারা অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছেন।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই আইন আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোতে অপরাধের হার অনেক বেশি, আর যদি গভর্নর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, তাহলে তারাই দায়িত্ব নেবেন।

এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা দেয়, তবে এটি সাধারণত রাজ্য গভর্নরদের অনুরোধেই ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে এই আইন প্রয়োগ করেছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা প্রয়োগের আরও একটি উদাহরণ। সম্প্রতি সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি মার্কিন শহরগুলোকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, যা ডেমোক্র্যাট এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, পোর্টল্যান্ড এবং শিকাগোতে গার্ড পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও মেয়ররা বলছেন, ট্রাম্পের দাবি বাস্তবের সঙ্গে মেলে না।

মঙ্গলবার শিকাগো থেকে প্রায় আশি কিলোমিটার দূরে এলউড শহরে সেনাদের একত্রিত হতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ট্রাম্প যে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের’ কথা বলছেন, বাস্তবে সেরকম কোনো পরিস্থিতি সেখানে নেই।

শিকাগোতে সহিংস অপরাধের হার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে; শহরের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক, রেস্তোরাঁ ও থিয়েটারগুলো বেশ ব্যস্ত, এবং মানুষজন লেকের ধারে ভিড় করছেন।

তবে শহরতলির ব্রডভিউর একটি অভিবাসন কেন্দ্রে ফেডারেল বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়, এতে কয়েকজন আহত হন এবং অন্তত একজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার বলেন, ট্রাম্প তাঁদের রাজ্যের সেনাদের রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং অবৈধভাবে শহরগুলোকে সামরিকীকরণের চেষ্টা করছেন।

ইলিনয় এবং শিকাগো প্রশাসন ইতোমধ্যে ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যাতে ইলিনয়ের তিনশো ও টেক্সাসের চারশো সেনা ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন বন্ধ করা যায়। ফেডারেল বিচারক এপ্রিল পেরি আপাতত মোতায়েন চালু রাখার অনুমতি দিলেও বুধবারের মধ্যে সরকারের বক্তব্য চেয়েছেন।

অন্যদিকে, ওরেগনের এক বিচারক পোর্টল্যান্ডে সেনা পাঠানো স্থগিত রেখেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যদি সত্যিই ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ কার্যকর করেন, তবে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যদিও সর্বোচ্চ আদালত একাধিকবার জানিয়ে দিয়েছে যে আইনটি প্রয়োগের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা একমাত্র প্রেসিডেন্টই নির্ধারণ করতে পারেন।