বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পানি ও বিদ্যুৎ অপচয় রোধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের একদল নেতাকর্মী।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ‘বৈশ্বিক সংকটকালীন মুহূর্তে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি কিনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্বালানি সাশ্রয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ শুরু হয়। এরপর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, কলা অনুষদ, ভিসি চত্বরসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচির আয়োজক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের সময়ে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে ভাবা অত্যন্ত জরুরি। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অপচয়ই পানি ও বিদ্যুতের সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামান্য সচেতনতা ও অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে বড় ধরনের সাশ্রয় সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাতি জ্বালিয়ে রাখা বা ট্যাপ খোলা রাখা আমাদের কাছে তুচ্ছ মনে হলেও, সম্মিলিতভাবে এসব ক্ষুদ্র অপচয় বড় সংকটে রূপ নেয়। চাহিদা বাড়লেও জ্বালানি ও পানির সরবরাহ সীমিত—এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে।
তৌহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ অপচয় রোধ কেবল খরচ কমানোর বিষয় নয়, এটি পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ানো হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। একইভাবে, পৃথিবীতে পানির পরিমাণ বেশি হলেও ব্যবহারযোগ্য বিশুদ্ধ পানির পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসবাস করে, সেখানে সামান্য অসচেতনতা থেকেও বড় ধরনের অপচয় হতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া লাইট-ফ্যান বন্ধ রাখা এবং পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়া জরুরি।
তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপচয় নয়, সাশ্রয়কে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আজকের ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতের বড় সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























