চট্টগ্রাম মহানগরীতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে যেখানে খুদে দোকানদার থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতিরা পর্যন্ত জিম্মি হয়ে পড়েছেন এবং চাঁদা না দিলেই ঘটছে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১৬টি থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ৫৫টি মামলা হয়েছে এবং ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রাণভয়ে অনেক ভুক্তভোগীই অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। বিশেষ করে চান্দগাঁও, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণ বা জমি কেনাবেচা করলেই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর নামে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। সাজ্জাদের অনুসারী ছোট সাজ্জাদ কারান্তরীণ থাকলেও তার সহযোগী রায়হান, ইমন, বোরহান এবং বর্তমানে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা ‘বার্মা সাইফুল’ পুরো শহরজুড়ে আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করেছেন। চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে গুলিবর্ষণ এবং ব্যবসায়ীদের গুদামে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে।
শুধু বড় ব্যবসায়ী বা ভবন মালিকরাই নন, ফুটপাতের ক্ষুদ্র হকার এবং গণপরিবহন থেকেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ ও জিইসি মোড়ের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় দৈনিক ভিত্তিতে হকারদের থেকে ২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে। এমনকি চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি এবং নারী উদ্যোক্তাদের কাছেও কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ জানিয়েছেন যে তারা যেকোনো অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং সন্ত্রাসীদের দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি কাটেনি।
রিপোর্টারের নাম 

























