২০২৫ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির ঘটনা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে সারা দেশে গণপিটুনিতে অন্তত ১৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই সর্বোচ্চ ২৭ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে এখন পর্যন্ত মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মোট ২৯৩ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ, ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং গুজবকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
আসক-এর তথ্যমতে, কেবল মব সন্ত্রাস নয়, কারাগার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও ২০২৫ সালে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ১০৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই সর্বোচ্চ ৩৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও হেফাজতে নির্যাতনসহ অন্তত ৩৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্রে দেখা যায়, সারা দেশে ৪০১টি সংঘাতের ঘটনায় ১০২ জন নিহত এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। বিশেষ করে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনটি নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি ও নির্যাতনে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক বছরে ৩৮১ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনটি এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























