বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পাওয়ার চিরাচরিত উৎসব এবারও ম্লান হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) যথাসময়ে সব পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই প্রায় ৩ কোটি বইয়ের ঘাটতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। প্রাথমিকের বই সরবরাহ সম্ভব হলেও মূলত মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই এই সংকটের প্রধান শিকার।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে এখনও ২ কোটি ৯২ লাখ ১৮ হাজার ৬০৯টি পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ বাকি রয়েছে, যা মোট চাহিদার ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক বই যথাসময়ে না পৌঁছানোর পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করতে বিলম্ব। এর ফলস্বরূপ মুদ্রণ কাজও দেরিতে শুরু হয়, যার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়েছে।
সংস্থাটি আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ সম্পন্ন করার দাবি করছে। তবে এর আগেও এনসিটিবি বেশ কয়েকবার বই বিতরণের সময়সীমা ঘোষণা করে তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, যা বর্তমান প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান জানান, গত ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মাধ্যমিক (ইবতেদায়িসহ) স্তরের ১৮ কোটি ৫০ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬৫টি পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শতভাগ পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটিবি জানিয়েছিল, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের মোট পাঠ্যবইয়ের গড়ে ৮৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সাময়িক অসুবিধা নিরসনে এনসিটিবি গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকেই তাদের ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd) সব স্তরের সকল পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ আপলোড করেছে। তবে ডিজিটাল সংস্করণের সহজলভ্যতা সত্ত্বেও, কাগজের বইয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও হতাশা কাটছে না।
রিপোর্টারের নাম 
























