ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন ঘিরে কোটিপতিদের জয়জয়কার: হলফনামায় বিপুল সম্পদের পাহাড় ও অর্থনৈতিক বৈষম্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

বিখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের সেই ঐতিহাসিক উক্তি—‘নির্বাচন এখন কোটি টাকার খেলা’—নতুন বাংলাদেশেও যেন ধ্রুব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, সৎ ও সাধারণ প্রার্থীর চেয়ে বিত্তশালীদের প্রাধান্যই বেশি। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, কোটিপতি প্রার্থীদের ছড়াছড়ি সেই প্রত্যাশাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। হলফনামার তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি প্রার্থী কোটিপতি, যার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সুনামগঞ্জের আসনগুলোতে প্রার্থীদের সম্পদের যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তা রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের অধিকাংশ প্রার্থীর সম্পদ কোটি টাকার ঘরে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা শত কোটি ছাড়িয়েছে। রাজশাহীতে প্রার্থীদের হলফনামায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্যের সঙ্গে বাজারমূল্যের ব্যাপক গরমিল ও আর্থিক অসংগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। এমনকি সদ্য গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-র অনেক তরুণ প্রার্থীর ক্ষেত্রেও বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর হলফনামায়, যার দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা ও পাম জুমেইরাহতে তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং গত সাত বছরে যার নগদ অর্থ বেড়েছে ২৭ গুণেরও বেশি।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি যখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই বিপুল সম্পদের পাহাড় বৈষম্যের এক করুণ চিত্র তুলে ধরছে। পিপিআরসি-র তথ্যমতে, ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৭.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষ যখন সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে, তখন গত এক বছরে দেশে নতুন করে আরও ৯ হাজার কোটিপতি আমানতকারী সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোটিপতিদের অ্যাকাউন্টে এক বছরে জমা হয়েছে প্রায় ৫৫,৬০০ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক ধসের মধ্যে কোটিপতি আমানতকারীর এই ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি স্বাভাবিক বাজারের আচরণ নয়। রাজনীতিতে লোক বদল হলেও দুর্নীতির কাঠামো কতটা বদলেছে, এই কোটিপতি প্রার্থীদের প্রাধান্য এখন সেই প্রশ্নকেই জোরালো করে তুলছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

নির্বাচন ঘিরে কোটিপতিদের জয়জয়কার: হলফনামায় বিপুল সম্পদের পাহাড় ও অর্থনৈতিক বৈষম্য

আপডেট সময় : ০৪:১০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের সেই ঐতিহাসিক উক্তি—‘নির্বাচন এখন কোটি টাকার খেলা’—নতুন বাংলাদেশেও যেন ধ্রুব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, সৎ ও সাধারণ প্রার্থীর চেয়ে বিত্তশালীদের প্রাধান্যই বেশি। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, কোটিপতি প্রার্থীদের ছড়াছড়ি সেই প্রত্যাশাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। হলফনামার তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি প্রার্থী কোটিপতি, যার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সুনামগঞ্জের আসনগুলোতে প্রার্থীদের সম্পদের যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তা রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের অধিকাংশ প্রার্থীর সম্পদ কোটি টাকার ঘরে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা শত কোটি ছাড়িয়েছে। রাজশাহীতে প্রার্থীদের হলফনামায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্যের সঙ্গে বাজারমূল্যের ব্যাপক গরমিল ও আর্থিক অসংগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। এমনকি সদ্য গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-র অনেক তরুণ প্রার্থীর ক্ষেত্রেও বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর হলফনামায়, যার দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা ও পাম জুমেইরাহতে তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং গত সাত বছরে যার নগদ অর্থ বেড়েছে ২৭ গুণেরও বেশি।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি যখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই বিপুল সম্পদের পাহাড় বৈষম্যের এক করুণ চিত্র তুলে ধরছে। পিপিআরসি-র তথ্যমতে, ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৭.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষ যখন সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে, তখন গত এক বছরে দেশে নতুন করে আরও ৯ হাজার কোটিপতি আমানতকারী সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোটিপতিদের অ্যাকাউন্টে এক বছরে জমা হয়েছে প্রায় ৫৫,৬০০ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক ধসের মধ্যে কোটিপতি আমানতকারীর এই ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি স্বাভাবিক বাজারের আচরণ নয়। রাজনীতিতে লোক বদল হলেও দুর্নীতির কাঠামো কতটা বদলেছে, এই কোটিপতি প্রার্থীদের প্রাধান্য এখন সেই প্রশ্নকেই জোরালো করে তুলছে।