ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের আটকাদেশের মধ্যেই উধাও ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’; বন্দর ও কোস্টগার্ডের নজরদারি এড়িয়ে নিরুদ্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে
ইরানি জ্বালানি বহনের দায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়া এলপিজিবাহী বিশালাকার ট্যাংকার জাহাজ ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’ চট্টগ্রাম বন্দর ও কুতুবদিয়া জলসীমা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। ৪২ হাজার টন এলপিজিসহ জাহাজটি ঠিক কবে এবং কীভাবে বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করলো, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে। পোর্ট ক্লিয়ারেন্স (PC) ছাড়াই জাহাজটির এই নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ৪৪ হাজার ৯২৫ টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল জাহাজটি। এরপর কুতুবদিয়া নোঙরে থাকাকালীন জাহাজটি একের পর এক জটিলতায় পড়ে। প্রথমে এলপিজি খালাসের সময় আগুন লাগার ঘটনা, এরপর আন্তর্জাতিক অ্যাডমিরালটি আদালতের আটকাদেশ এবং সবশেষে গত বছরের ৯ অক্টোবর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (OFAC) নিষেধাজ্ঞা। এতসব কড়াকড়ির মধ্যেই গত ১৫ নভেম্বরের কোনো এক সময় জাহাজটি উধাও হয়ে যায়। মজার ব্যাপার হলো, জাহাজটি বাস্তবে উধাও হয়ে গেলেও চট্টগ্রাম বন্দরের ‘বার্থিং লিস্টে’ এখনও এর নাম রয়ে গেছে, যার অর্থ দাপ্তরিকভাবে জাহাজটি এখনও বন্দরে অবস্থান করছে।

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট সিওয়েভ মেরিন সার্ভিসেস জানিয়েছে, গত ১৬ নভেম্বর থেকে তারা জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না। এ ঘটনায় তারা কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। তবে ওই জিডিতেও তথ্যের গড়মিল পাওয়া গেছে। এজেন্টের দাবি, জাহাজের মালিক বা বিদেশি ‘প্রিন্সিপাল’ তাদের কিছু না জানিয়েই জাহাজটি সরিয়ে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য বলছে, বাংলাদেশে থাকাকালীনই জাহাজটি গোপনে নাম ও পতাকা পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে ‘আদা’ (ADA) নামে বতসোয়ানার পতাকা বহন করে জাহাজটি মালাক্কা প্রণালি হয়ে চীনের দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটি আগে ইরানি এলপিজি বহনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তবে পিসি ছাড়া একটি বড় জাহাজ কীভাবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলে গেল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা পালনে বড় ধরনের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের আটকাদেশের মধ্যেই উধাও ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’; বন্দর ও কোস্টগার্ডের নজরদারি এড়িয়ে নিরুদ্দেশ

আপডেট সময় : ০১:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ইরানি জ্বালানি বহনের দায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়া এলপিজিবাহী বিশালাকার ট্যাংকার জাহাজ ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’ চট্টগ্রাম বন্দর ও কুতুবদিয়া জলসীমা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। ৪২ হাজার টন এলপিজিসহ জাহাজটি ঠিক কবে এবং কীভাবে বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করলো, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে। পোর্ট ক্লিয়ারেন্স (PC) ছাড়াই জাহাজটির এই নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ৪৪ হাজার ৯২৫ টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল জাহাজটি। এরপর কুতুবদিয়া নোঙরে থাকাকালীন জাহাজটি একের পর এক জটিলতায় পড়ে। প্রথমে এলপিজি খালাসের সময় আগুন লাগার ঘটনা, এরপর আন্তর্জাতিক অ্যাডমিরালটি আদালতের আটকাদেশ এবং সবশেষে গত বছরের ৯ অক্টোবর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (OFAC) নিষেধাজ্ঞা। এতসব কড়াকড়ির মধ্যেই গত ১৫ নভেম্বরের কোনো এক সময় জাহাজটি উধাও হয়ে যায়। মজার ব্যাপার হলো, জাহাজটি বাস্তবে উধাও হয়ে গেলেও চট্টগ্রাম বন্দরের ‘বার্থিং লিস্টে’ এখনও এর নাম রয়ে গেছে, যার অর্থ দাপ্তরিকভাবে জাহাজটি এখনও বন্দরে অবস্থান করছে।

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট সিওয়েভ মেরিন সার্ভিসেস জানিয়েছে, গত ১৬ নভেম্বর থেকে তারা জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না। এ ঘটনায় তারা কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। তবে ওই জিডিতেও তথ্যের গড়মিল পাওয়া গেছে। এজেন্টের দাবি, জাহাজের মালিক বা বিদেশি ‘প্রিন্সিপাল’ তাদের কিছু না জানিয়েই জাহাজটি সরিয়ে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য বলছে, বাংলাদেশে থাকাকালীনই জাহাজটি গোপনে নাম ও পতাকা পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে ‘আদা’ (ADA) নামে বতসোয়ানার পতাকা বহন করে জাহাজটি মালাক্কা প্রণালি হয়ে চীনের দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটি আগে ইরানি এলপিজি বহনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তবে পিসি ছাড়া একটি বড় জাহাজ কীভাবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলে গেল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা পালনে বড় ধরনের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।