দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং সম্ভাব্য সংকট নিরসনে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ পুরো বছর জুড়ে এই আমদানি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই ডিজেল আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূলত দেশের কৃষি সেচ মৌসুম এবং শিল্পোৎপাদন সচল রাখতে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেও এই বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার পর এবার জ্বালানি তেল আমদানির এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে বাংলাদেশের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা এখনো অপরিহার্য। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি আমদানি করা হলে পরিবহন খরচ ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ডলার সাশ্রয় করে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজেল নিশ্চিত করতে এই চুক্তিটি ইউনূস সরকারের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সারা বছর জুড়ে নির্দিষ্ট সূচি মেনে এই ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। ভারত বিরোধিতার নানা রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানি খাতের এই আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতাকেই স্পষ্ট করছে।
রিপোর্টারের নাম 





















