ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অপপ্রচার: কঠোর নজরদারিতে গুজবকারীরা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৩২ দিন বাকি। নির্বাচনি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলেও একটি বিশেষ মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন তথ্য ও বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির যে তৎপরতা চলছে, তা বর্তমানে সরকারের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, যারা অনলাইনে সংশয় ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তাদের প্রোফাইল সরকারের কাছে স্পষ্ট এবং এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপপ্রচার শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সচেষ্ট থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে। গত বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল অভিযোগ করেছে যে, মাঠ পর্যায়ে এখনো ‘দলীয়’ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপাররা (এসপি) বহাল রয়েছেন, যারা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করতে পারেন। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন যে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সুযোগ নিয়ে অনলাইনে একদল কুচক্রী নির্বাচন ভন্ডুল করার গুজব ছড়াচ্ছে।

বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারানো একটি অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠী অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল উভয়েই জানিয়েছেন যে, জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে এবং কোনো ধরনের অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রই নির্বাচনি ট্রেন থামাতে পারবে না। জামায়াত নেতা হেলাল আরও উল্লেখ করেন যে, প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা ঠুনকো অজুহাতে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছেন, যা নিরসনে ইসির শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা যেকোনো তথ্য যাচাই না করে গ্রহণ না করেন। কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণকে নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ভুয়া পোস্টার বা মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তবে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত করতে ইসি সব দলের সহযোগিতা কামনা করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অপপ্রচার: কঠোর নজরদারিতে গুজবকারীরা

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৩২ দিন বাকি। নির্বাচনি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলেও একটি বিশেষ মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন তথ্য ও বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির যে তৎপরতা চলছে, তা বর্তমানে সরকারের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, যারা অনলাইনে সংশয় ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তাদের প্রোফাইল সরকারের কাছে স্পষ্ট এবং এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপপ্রচার শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সচেষ্ট থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে। গত বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল অভিযোগ করেছে যে, মাঠ পর্যায়ে এখনো ‘দলীয়’ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপাররা (এসপি) বহাল রয়েছেন, যারা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করতে পারেন। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন যে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সুযোগ নিয়ে অনলাইনে একদল কুচক্রী নির্বাচন ভন্ডুল করার গুজব ছড়াচ্ছে।

বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারানো একটি অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠী অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল উভয়েই জানিয়েছেন যে, জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে এবং কোনো ধরনের অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রই নির্বাচনি ট্রেন থামাতে পারবে না। জামায়াত নেতা হেলাল আরও উল্লেখ করেন যে, প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা ঠুনকো অজুহাতে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছেন, যা নিরসনে ইসির শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা যেকোনো তথ্য যাচাই না করে গ্রহণ না করেন। কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণকে নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ভুয়া পোস্টার বা মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তবে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত করতে ইসি সব দলের সহযোগিতা কামনা করেছে।