আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠন ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় দুটি করে ব্যানার টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নরসহ দেশের কার্যরত সব বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) উপস্থিত ছিলেন।
সভা সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, গণভোটের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তুলতে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে ব্যাংকগুলোর বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর কৌশল হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে, গণভোটকে কেন্দ্র করে যদি কোনো এনজিও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরামর্শও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে গণভোট সম্পর্কিত তথ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
সভায় ব্যাংক খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা নিয়েও গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর। খেলাপি ঋণ হ্রাসের চলমান ধারা যেন অব্যাহত থাকে এবং নতুন করে কোনো আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়—সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়াও, স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রতিটি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে বছরে ন্যূনতম দুটি স্কুল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়।
বৈঠক শেষে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরিফিন সাংবাদিকদের বলেন, “আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং জনআস্থা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা সবাই সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
রিপোর্টারের নাম 






















