ভৌগোলিক দুর্গমতা ও নজরদারির অভাবে হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে মানবপাচার ও চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে যেখানে ইনকিলাব মঞ্চের নেতার ওপর হামলাকারী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকা এখন চোরাকারবারি ও মানবপাচারের অন্যতম নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে শিথিলতার সুযোগ নিয়ে এই সীমান্ত দিয়ে নির্বিঘ্নে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের এই পথ ব্যবহার করেই ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এই পুরো পাচার প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ফিলিপ সাংমা নামে ৩২ বছর বয়সী এক আদিবাসী যুবকের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী ফয়সাল মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে নিরাপদে সীমান্ত পার করে দিতে মূল ভূমিকা পালন করেন এই ফিলিপ। হালুয়াঘাটের ধারা বাজারের একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে তারা নিজেদের গাড়ি পরিবর্তন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ভুটিয়াপাড়া এলাকার কাঁটাতারের নিচের একটি গোপন সুড়ঙ্গ পথ ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ করেন। পাচারের কাজে ব্যবহৃত ফিলিপের মোটরসাইকেলটি ইতিমধ্যে জব্দ করেছে বিজিবি।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীও এই একই রুট ব্যবহার করে ভারতে পালিয়ে গেছেন। নজরদারি কম থাকায় ভুটিয়াপাড়া এলাকাটি বর্তমানে চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই পথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় চিনি জিরার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাদকও দেশে প্রবেশ করছে।
বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল সরকার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ফিলিপকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ইতিমধ্যে তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর ফিলিপ ও তার তিন সহযোগীর নামে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























