শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ: এক সময়ের খরস্রোতা যমুনা নদী এখন তার যৌবন হারিয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। বিশাল বিশাল বালুচরের কারণে নদীর স্বাভাবিক নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। যমুনায় পানি না থাকায় দেশীয় প্রজাতির মাছের সংকট দেখা দিয়েছে, যা এখানকার জেলেদের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নাব্য সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। গতিপথ হারিয়ে যমুনা একদিকে যেমন চরাঞ্চলের মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছে, তেমনই শুষ্ক মৌসুমে এটি একটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। যাত্রী পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নৌকার মাঝি এবং যাত্রীরা। নদী পাড়ের মানুষ দ্রুত নদী শাসনের দাবি জানিয়েছেন।
নববইয়ের দশকে যমুনা নদী তার পূর্ণ যৌবনে ছিল। তখন এই নদীতে স্টিমার, ফেরি, লঞ্চ, জাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করত। টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ হয়ে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই যমুনা নদী। সে সময় বড় বড় ঢেউয়ের তোড়ে ফেরি বা স্টিমারের মতো ভারী নৌযানও থমকে যেত এবং নদী তীরের মানুষ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই যমুনা এখন শুকিয়ে একটি শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। নদীবেষ্টিত জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বিশাল এলাকাজুড়ে বালুচর জেগে উঠেছে।
একসময় যমুনা নদীতে ইলিশ, বোয়াল, আইড়, চিংড়ি, পাবদা, রুই, কাতলা জাতীয় মাছের ব্যাপক চাহিদা ছিল দেশজুড়ে। কিন্তু বর্তমানে যমুনায় পানি না থাকায় দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না। নদীর নাব্য কমে যাওয়া এবং দ্রুত পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এসব মাছের দেখা মিলছে না। ফলে, যারা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা আজ পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে নদী শাসন না হওয়ায় গতিপথ পরিবর্তন হয়ে শুষ্ক মৌসুমে যমুনা বালুচরে রূপ নিয়েছে। চরের মানুষ নৌকাযোগে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের সুবিধা পেত, কিন্তু এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে অথবা অনেক দূর ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। মালপত্র পরিবহনের জন্য ঘোড়ার গাড়িই এখন একমাত্র ভরসা।
তবে, নদীর তলদেশে জমে থাকা শত শত একর পলিপড়া জমি কৃষকদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। এসব জমি এখন কৃষকদের সবুজে ভরে উঠেছে। চরে ভুট্টা, বাদাম, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, তিল, ধান, মরিচসহ নানা ফসল চাষ করে চরাঞ্চলের মানুষ সংসারে সচ্ছলতা এনেছে। কাওয়াকোলা চরের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর আমাদের যাতায়াতে কষ্ট করতে হয়। নদীর অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বিশাল বিশাল বালুর চর। পানি কমে নদী শুকিয়ে গেছে। বলতে গেলে পানি সারা বছর…”
রিপোর্টারের নাম 






















