ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

পেট্রোডলারের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ব অর্থনীতি: ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পাদিত ঐতিহাসিক চুক্তির মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে পেট্রোডলার ব্যবস্থার সূচনা হয়। এই চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন আরব দেশগুলোকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিনিময়ে দেশগুলো মার্কিন ডলারে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সম্মত হয়। গত পাঁচ দশক ধরে এই ব্যবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারিকে শক্তিশালী করেছে এবং দেশটির ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এই দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক কাঠামোকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। এই পদক্ষেপটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি লেনদেনের প্রধান মুদ্রা হিসেবে ডলারের অবস্থানকে শিথিল করে ‘পেট্রো-ইউয়ান’ ব্যবস্থার পথ সুগম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জার্মান ঋণদাতা সংস্থা ডয়চে ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, চলমান সংঘাতের ফলে পেট্রোডলার ব্যবস্থার অবসান ঘটতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটের মুখে ইরান মার্কিন ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে বাধা দিলেও চীনা ইউয়ানে লেনদেন করা জাহাজগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন ভোলার ৬৪ হাজার জেলে

পেট্রোডলারের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ব অর্থনীতি: ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পাদিত ঐতিহাসিক চুক্তির মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে পেট্রোডলার ব্যবস্থার সূচনা হয়। এই চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন আরব দেশগুলোকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিনিময়ে দেশগুলো মার্কিন ডলারে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সম্মত হয়। গত পাঁচ দশক ধরে এই ব্যবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারিকে শক্তিশালী করেছে এবং দেশটির ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এই দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক কাঠামোকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। এই পদক্ষেপটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি লেনদেনের প্রধান মুদ্রা হিসেবে ডলারের অবস্থানকে শিথিল করে ‘পেট্রো-ইউয়ান’ ব্যবস্থার পথ সুগম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জার্মান ঋণদাতা সংস্থা ডয়চে ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, চলমান সংঘাতের ফলে পেট্রোডলার ব্যবস্থার অবসান ঘটতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটের মুখে ইরান মার্কিন ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে বাধা দিলেও চীনা ইউয়ানে লেনদেন করা জাহাজগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।