যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতের ফলে কেবল তেলের দামই বাড়েনি, বরং হিলিয়াম গ্যাস এবং সার উৎপাদনের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি ও পণ্য ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। টাফট’স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রকফোর্ড উইজড মনে করেন, বাজার স্থিতিশীল হতে হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়মিত হওয়া জরুরি, যা রাতারাতি সম্ভব নয়। তিনি এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিঘ্ন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাতের আগে এই পথ দিয়ে দিনে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, যা বর্তমানে ১০টিরও নিচে নেমে এসেছে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতি টেকসই হলেও এ বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হতে পারে। তবে ইরাক যদি তাদের বন্ধ থাকা তেল উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে পারে, তবে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























