জুলাই বিপ্লবী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর তার সহযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এই রায়কে তারা অসম্পূর্ণ আখ্যা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। রায় প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন স্থানে আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও ঘনিষ্ঠরা জড়ো হয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারা রায়ের সমালোচনা করেন।
আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের লঘু শাস্তি এবং নির্দেশ পালনকারীদের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের গুরুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শহীদ আবু সাঈদের বোন মোছা. সুমি আক্তার অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাই জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, যার কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আমরা এই রায়ের জন্য অনেক প্রত্যাশায় ছিলাম। রায়ে যতটুকু শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। কাউকে পাঁচ বছর, কাউকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের আরও শাস্তির আশা করেছিলাম। রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।’
আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘পুরো রায় দেখে আমার মনে হয়েছে, প্রকৃত অর্থে যারা আসামি তাদের অনেকের বিরুদ্ধে তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে রায়ের কিছু দিক আছে, যেগুলো দেখে কিছুটা হলেও সন্তুষ্ট হওয়া যায়। যেমন আসাদ মণ্ডল ও মশিউরের বিষয়গুলো, ভিসিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া এবং দুজনকে ফাঁসির আদেশ—এই অংশগুলো দেখে অন্তত মনে হয়েছে, কিছুটা হলেও বিচার হয়েছে।’
আরেক সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই রায় প্রকাশ হয়েছে কিন্তু রায় আশানুরূপ হয়নি। কয়েকজন আসামিকে গুরু অপরাধে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুজন কনস্টেবলের সর্বোচ্চ শাস্তি হলেও নির্দেশদাতা পুলিশ সদস্য, সেই সঙ্গে যেসব পুলিশ সদস্য তার শরীরে আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের উত্তাল মুহূর্তে যারা সম্মুখ থেকে ছাত্রদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জনসমক্ষে অস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে, ছাত্রলীগের সেসব সন্ত্রাসীর ন্যূনতম শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের জন্য কষ্টের ও হতাশার। আবু সাঈদ জুলাইয়ের প্রথম শহীদ। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা, তার হত্যার বিচার বাকি সব শহীদের হত্যার বিচারের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। তাই আমরা আরও কঠোর বিচার আশা করেছিলাম।’
রিপোর্টারের নাম 





















