ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

প্রি-শিপমেন্ট ঋণের মেয়াদ ২০৩০ পর্যন্ত বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের চলমান যুদ্ধ এবং অন্যান্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের তৈরি পোশাক ও রপ্তানিমুখী খাতগুলো বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই সংকট মোকাবিলা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং উৎপাদন অব্যাহত রেখে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই বিশেষ ঋণ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অনিশ্চয়তার এই সময়েও রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পূর্বে এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুবিধাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চালু থাকার কথা ছিল। তবে, এখন তা আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে চালু রাখা হবে। ১০ হাজার কোটি টাকার এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড (ইএফপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি টাকা প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে বরাদ্দ করা হবে। দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে, রিফাইন্যান্স সুবিধা পেতে হলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে নতুন করে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

ব্যাংকগুলোকে রপ্তানিকারকদের প্রি-শিপমেন্ট ঋণ বিতরণের এক সপ্তাহের মধ্যেই রিফাইন্যান্সের জন্য আবেদন করতে হবে। বিশেষ কোনো কারণ থাকলে অতিরিক্ত ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এই স্কিমের অধীনে কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এক সময়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি সুবিধা নিতে পারবে না। তদারকি জোরদার করার জন্য অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ১৫ দিনের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই তহবিলের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩, যারা প্রয়োজনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করবে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে জারি করা পূর্ববর্তী সার্কুলারের অন্যান্য শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির ফ্যাকাশে পারফরম্যান্সে ইন্টার মিয়ামির ড্রয়ের ধারা অব্যাহত

প্রি-শিপমেন্ট ঋণের মেয়াদ ২০৩০ পর্যন্ত বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের চলমান যুদ্ধ এবং অন্যান্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের তৈরি পোশাক ও রপ্তানিমুখী খাতগুলো বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই সংকট মোকাবিলা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং উৎপাদন অব্যাহত রেখে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই বিশেষ ঋণ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অনিশ্চয়তার এই সময়েও রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পূর্বে এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুবিধাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চালু থাকার কথা ছিল। তবে, এখন তা আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে চালু রাখা হবে। ১০ হাজার কোটি টাকার এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড (ইএফপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি টাকা প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে বরাদ্দ করা হবে। দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে, রিফাইন্যান্স সুবিধা পেতে হলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে নতুন করে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

ব্যাংকগুলোকে রপ্তানিকারকদের প্রি-শিপমেন্ট ঋণ বিতরণের এক সপ্তাহের মধ্যেই রিফাইন্যান্সের জন্য আবেদন করতে হবে। বিশেষ কোনো কারণ থাকলে অতিরিক্ত ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এই স্কিমের অধীনে কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এক সময়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি সুবিধা নিতে পারবে না। তদারকি জোরদার করার জন্য অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ১৫ দিনের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই তহবিলের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩, যারা প্রয়োজনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করবে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে জারি করা পূর্ববর্তী সার্কুলারের অন্যান্য শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।