দেশে হামে শিশুমৃত্যু এবং টিকার তীব্র সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বুধবার স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় তিনি স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন স্বীকার করেন যে টিকা ঘাটতি ছিল, তবে সরকার বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত ৯ মাস ধরে টিকা পরিবহনকারীদের বেতন বকেয়া থাকা এবং জনবল সংকটের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৯৮ জন এবং নিশ্চিতভাবে ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১০টি রোগের টিকার মজুদও প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার জবাবে বলেন, পোর্টারদের ৯ মাসের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি সত্য এবং সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুতই এই বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এডিবির অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা থেকে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি নতুন টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪১৯ কোটি টাকার টিকা কেনা চূড়ান্ত হয়েছে এবং ২০০ কোটি টাকার চালান দেশে পৌঁছেছে।
মন্ত্রী জানান, ১৮টি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০ মে থেকে সারা দেশে একটি ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে ১২ এপ্রিল থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্যমতে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৪১ জন। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন যে, বর্তমানে টিকার মজুদ স্থিতিশীল এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সফল হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















