ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরে ভিন্ন ধানের জাত নিয়ে ব্যতিক্রমী ‘রাইস মিউজিয়াম’

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বোরো ধানের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এবার দেখা মিলছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাংহাই হাওরপাড়ের উজানীগাঁও গ্রামে প্রায় ৮ শতক জমিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ‘রাইস মিউজিয়াম’। এখানে একই জমিতে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে ৫১টি ভিন্ন জাতের ধান, যা ধানের বৈচিত্র্যের এক জীবন্ত প্রদর্শনী।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিন আশপাশের এলাকার কৃষকরা ভিড় করছেন সেখানে। তারা ধানের গাছ, শীষ এবং উচ্চতার পার্থক্য সরাসরি দেখে বাস্তব ধারণা নিচ্ছেন। কৃষকদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ধানের জাতের পাশে নাম লেখা স্টিকারও বসানো হয়েছে। প্রদর্শিত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রি-ধান–১০৪, ব্রি-ধান–১০২, ব্রি-ধান–১০৮, ব্রি-ধান–৮৮ সহ বিভিন্ন উচ্চ-ফলনশীল জাত।

উজানীগাঁও গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘এক জায়গায় এত জাতের ধান আমরা আগে কখনো দেখিনি। গাছের উচ্চতা, শীষ আর ধানের ধরন একেকটা একেক রকম। এতে করে কোন জাত আমাদের জমির জন্য ভালো হবে, তা বুঝতে সুবিধা হচ্ছে।’ আরেক কৃষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, ‘বিভিন্ন ধানের জাত একসাথে দেখে অনেক কিছু শেখা যাচ্ছে। আগে শুধু এক-দুইটা জাতের ধানই চাষ করতাম। এখন মনে হচ্ছে নতুন ভালো ফলনশীল জাত বেছে নিয়ে চাষ করলে লাভও বেশি হতে পারে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩৭টি হাওর রয়েছে, যেখানে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। প্রতি বছর এখান থেকে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এত বড় উৎপাদনের পরও অনেক কৃষক নতুন ও উন্নত জাতের ধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পান না। এই সমস্যা দূর করতে এবং কৃষকদের মাঠ-পর্যায়ে সরাসরি ধারণা দিতে ও নতুন উদ্ভাবনী জাত সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াতেই এই ‘রাইস মিউজিয়াম’ তৈরি করা হয়েছে।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, ‘মাঠেই বিভিন্ন জাতের ধান দেখে কৃষকরা সহজেই পার্থক্য বুঝতে পারছেন। এতে তারা নিজের জমির জন্য উপযোগী জাত নির্বাচনেও আগ্রহী হচ্ছেন।’ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে সরাসরি কৃষকের মাঠে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

সুনামগঞ্জের হাওরে ভিন্ন ধানের জাত নিয়ে ব্যতিক্রমী ‘রাইস মিউজিয়াম’

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বোরো ধানের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এবার দেখা মিলছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাংহাই হাওরপাড়ের উজানীগাঁও গ্রামে প্রায় ৮ শতক জমিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ‘রাইস মিউজিয়াম’। এখানে একই জমিতে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে ৫১টি ভিন্ন জাতের ধান, যা ধানের বৈচিত্র্যের এক জীবন্ত প্রদর্শনী।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিন আশপাশের এলাকার কৃষকরা ভিড় করছেন সেখানে। তারা ধানের গাছ, শীষ এবং উচ্চতার পার্থক্য সরাসরি দেখে বাস্তব ধারণা নিচ্ছেন। কৃষকদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ধানের জাতের পাশে নাম লেখা স্টিকারও বসানো হয়েছে। প্রদর্শিত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রি-ধান–১০৪, ব্রি-ধান–১০২, ব্রি-ধান–১০৮, ব্রি-ধান–৮৮ সহ বিভিন্ন উচ্চ-ফলনশীল জাত।

উজানীগাঁও গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘এক জায়গায় এত জাতের ধান আমরা আগে কখনো দেখিনি। গাছের উচ্চতা, শীষ আর ধানের ধরন একেকটা একেক রকম। এতে করে কোন জাত আমাদের জমির জন্য ভালো হবে, তা বুঝতে সুবিধা হচ্ছে।’ আরেক কৃষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, ‘বিভিন্ন ধানের জাত একসাথে দেখে অনেক কিছু শেখা যাচ্ছে। আগে শুধু এক-দুইটা জাতের ধানই চাষ করতাম। এখন মনে হচ্ছে নতুন ভালো ফলনশীল জাত বেছে নিয়ে চাষ করলে লাভও বেশি হতে পারে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩৭টি হাওর রয়েছে, যেখানে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। প্রতি বছর এখান থেকে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এত বড় উৎপাদনের পরও অনেক কৃষক নতুন ও উন্নত জাতের ধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পান না। এই সমস্যা দূর করতে এবং কৃষকদের মাঠ-পর্যায়ে সরাসরি ধারণা দিতে ও নতুন উদ্ভাবনী জাত সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াতেই এই ‘রাইস মিউজিয়াম’ তৈরি করা হয়েছে।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, ‘মাঠেই বিভিন্ন জাতের ধান দেখে কৃষকরা সহজেই পার্থক্য বুঝতে পারছেন। এতে তারা নিজের জমির জন্য উপযোগী জাত নির্বাচনেও আগ্রহী হচ্ছেন।’ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে সরাসরি কৃষকের মাঠে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।