বাঘের রাজকীয় চালচলন আর শিকারি মেজাজের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে তার মুখের দুপাশে থাকা বিশেষ ধরনের লোম বা গোঁফ। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ভাইব্রিসি’। এটি কেবল সাধারণ কোনো লোম নয়, বরং বাঘের জন্য এক শক্তিশালী প্রাকৃতিক রাডার। রাতের অন্ধকারে বা ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলার সময় এই গোঁফ বাঘকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে নিখুঁত ধারণা দেয়।
বাঘের এই গোঁফগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাতাসের সামান্যতম কম্পন বা কোনো বস্তুর উপস্থিতি এই গোঁফের মাধ্যমে বাঘের স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে যায়। ফলে অন্ধকারে কোনো শিকারের অবস্থান বা পথের বাধা অনায়াসেই টের পায় এই শিকারি। শিকার ধরার সময় বাঘ তার দাঁত কোথায় বসাবে, সেটিও নির্ধারণে সাহায্য করে এই সংবেদনশীল লোমগুলো। এমনকি পানি পানের সময়ও চারপাশের তরঙ্গের মাধ্যমে বিপদের সংকেত পৌঁছে দেয় এই গোঁফ।
মানুষের যেমন আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট একেক জনের একেক রকম হয়, বাঘের গোঁফের বিন্যাসও ঠিক তেমনি স্বতন্ত্র। প্রতিটি বাঘের গোঁফের রেখা বা প্যাটার্ন আলাদা, যা তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। প্রকৃতির এই বিস্ময়কর সৃষ্টি আমাদের শেখায় যে, কোনো ক্ষুদ্র জিনিসকেও অবহেলে করা উচিত নয়, কারণ অনেক সময় এই ছোট অঙ্গটিই জীবনের বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।
রিপোর্টারের নাম 

























