বাংলাদেশ একসময় তার ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত থাকলেও, সাম্প্রতিক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সেই প্রাকৃতিক ছন্দে চরম ছন্দপতন ঘটেছে। কৃষিবিদ ড. রাধেশ্যাম সরকারের মতে, ঋতুচক্রের এই অস্বাভাবিকতা কেবল প্রকৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর গভীর ক্ষত সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালের তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পর, ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতেই দেশের ২৮টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। চুয়াডাঙ্গায় ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রার ৪.৫ ডিগ্রি বৃদ্ধি আবহাওয়ার এক ভয়াবহ অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই চরম তাপমাত্রার ওঠানামা বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান ও আমের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। ধানের আদর্শ ফলনের জন্য দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকা প্রয়োজন; এর বেশি হলে ধান চিটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধান রক্ষায় কৃষকদের মাঠে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, আমের গুটি বড় হওয়ার জন্য ২৫–৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আদর্শ হলেও তীব্র তাপে গুটি ছোট হয়ে ঝরে যাচ্ছে। শুধু গ্রীষ্ম নয়, শীতকালেও অসামঞ্জস্য দেখা দিচ্ছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পরপরই বসন্তের শুরুতে তাপমাত্রার দ্রুত ঊর্ধ্বগতি ঋতু রূপান্তরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের (নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত এক দশকে এই অঞ্চলে তাপমাত্রার চরমভাবাপন্নতা বেড়েছে—শীতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নামছে, আবার গ্রীষ্মে তা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ও দীর্ঘস্থায়ী খরা এই অঞ্চলকে মরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা এবং জলাবদ্ধতা কৃষি ও সুপেয় পানির সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে মানুষের মধ্যে সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ড. রাধেশ্যাম সরকার সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বনায়ন সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। নদী দখল ও জলাশয় ভরাট বন্ধ করে প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি। বাংলাদেশ এখন এক জটিল পরিবেশগত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যদি এখনই সমন্বিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা না যায়, তবে ভবিষ্যৎ প্র
রিপোর্টারের নাম 

























