ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাসের চাকায় বৈদ্যুতিক আভিজাত্য: ব্রাসেলসের রাজপথে ফিরল ‘অ্যান্ডারসন’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড প্লেস চত্বরে বর্তমানে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। গথিক স্থাপত্যের সামনে দাঁড়ালে মনে হতে পারে, ১৯শ শতাব্দী থেকে কোনো রাজকীয় ঘোড়ার গাড়ি সরাসরি বর্তমানে চলে এসেছে। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এটি কোনো ঘোড়ায় টানা যান নয়, বরং বিদ্যুতে চলা এক ঐতিহাসিক আভিজাত্যের প্রতীক—যার নাম ‘অ্যান্ডারসন’। এটি মূলত ১৮৩২ থেকে ১৮৩৯ সালের মধ্যে স্কটিশ উদ্ভাবক রবার্ট অ্যান্ডারসনের তৈরি বিশ্বের প্রথম দিকের বৈদ্যুতিক যানের একটি নিখুঁত প্রতিরূপ বা রিপ্রোডাকশন। গত বছর পোল্যান্ডে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নির্মিত এই বিশেষ যানটি এখন ব্রাসেলসের পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যান্ডারসনের এই যান্ত্রিক পুনর্জন্মের মূল উদ্দেশ্য হলো অটোমোবাইল ইতিহাসের সেই সোনালী সময়কে পুনরুজ্জীবিত করা, যখন পেট্রোল ইঞ্জিনের দাপট শুরু হয়নি এবং বৈদ্যুতিক গাড়িই ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। ১৮৩০-এর দশকে যখন মানুষ যাতায়াতের জন্য পুরোপুরি ঘোড়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল, ঠিক তখনই রবার্ট অ্যান্ডারসন বিশ্বের প্রথম অপরিশোধিত বৈদ্যুতিক রথ তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় পেট্রোল চালিত গাড়িগুলো ছিল অত্যন্ত শব্দবহুল ও ধোঁয়াটে; তার বিপরীতে অ্যান্ডারসনের এই উদ্ভাবন ছিল শান্ত ও ধোঁয়াহীন। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত মহলে এবং নারীদের কাছে এই রাজকীয় যানটি ছিল অত্যন্ত পছন্দের। আধুনিক এই সংস্করণে সেই ভিন্টেজ লুক ধরে রাখতে বড় স্পোকওয়ালা চাকা, কাঠের স্টোরেজ বক্স এবং কোচের বসার আসন অবিকল পুরনো আমলের রাজকীয় ঢঙে তৈরি করা হয়েছে।

ব্রাসেলসের সিটি সেন্টারে যাতায়াতকারী এই অ্যান্ডারসন গাড়িটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিঃশব্দ এবং পরিবেশবান্ধব, যা আধুনিক ব্রাসেলসের পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। গাড়িটির সামনে বসানো বড় কাঁচের ল্যাম্পগুলো যেন সেই আদি যুগের মায়াবী রাস্তার আবহ তৈরি করছে। গাড়িটির পেছনের অংশে থাকা ‘BXL’ সম্বলিত বেলজিয়ামের লাইসেন্স প্লেট একে বর্তমান সময়ের সাথে যুক্ত করেছে। দর্শনার্থীরা গ্র্যান্ড প্লেসের কারুকার্যময় দালানগুলোর সামনে এই জাদুকরী উদ্ভাবন দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। এটি কেবল একটি যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের শতাব্দী প্রাচীন পরিবেশবান্ধব চিন্তার এক জীবন্ত প্রতিফলন। ইতিহাসের চাকা এভাবেই ঘুরে এসে প্রমাণ করছে যে, ভবিষ্যতের টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার শেকড় আসলে অনেক গভীরে পোঁতা ছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

ইতিহাসের চাকায় বৈদ্যুতিক আভিজাত্য: ব্রাসেলসের রাজপথে ফিরল ‘অ্যান্ডারসন’

আপডেট সময় : ১০:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড প্লেস চত্বরে বর্তমানে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। গথিক স্থাপত্যের সামনে দাঁড়ালে মনে হতে পারে, ১৯শ শতাব্দী থেকে কোনো রাজকীয় ঘোড়ার গাড়ি সরাসরি বর্তমানে চলে এসেছে। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এটি কোনো ঘোড়ায় টানা যান নয়, বরং বিদ্যুতে চলা এক ঐতিহাসিক আভিজাত্যের প্রতীক—যার নাম ‘অ্যান্ডারসন’। এটি মূলত ১৮৩২ থেকে ১৮৩৯ সালের মধ্যে স্কটিশ উদ্ভাবক রবার্ট অ্যান্ডারসনের তৈরি বিশ্বের প্রথম দিকের বৈদ্যুতিক যানের একটি নিখুঁত প্রতিরূপ বা রিপ্রোডাকশন। গত বছর পোল্যান্ডে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নির্মিত এই বিশেষ যানটি এখন ব্রাসেলসের পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যান্ডারসনের এই যান্ত্রিক পুনর্জন্মের মূল উদ্দেশ্য হলো অটোমোবাইল ইতিহাসের সেই সোনালী সময়কে পুনরুজ্জীবিত করা, যখন পেট্রোল ইঞ্জিনের দাপট শুরু হয়নি এবং বৈদ্যুতিক গাড়িই ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। ১৮৩০-এর দশকে যখন মানুষ যাতায়াতের জন্য পুরোপুরি ঘোড়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল, ঠিক তখনই রবার্ট অ্যান্ডারসন বিশ্বের প্রথম অপরিশোধিত বৈদ্যুতিক রথ তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় পেট্রোল চালিত গাড়িগুলো ছিল অত্যন্ত শব্দবহুল ও ধোঁয়াটে; তার বিপরীতে অ্যান্ডারসনের এই উদ্ভাবন ছিল শান্ত ও ধোঁয়াহীন। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত মহলে এবং নারীদের কাছে এই রাজকীয় যানটি ছিল অত্যন্ত পছন্দের। আধুনিক এই সংস্করণে সেই ভিন্টেজ লুক ধরে রাখতে বড় স্পোকওয়ালা চাকা, কাঠের স্টোরেজ বক্স এবং কোচের বসার আসন অবিকল পুরনো আমলের রাজকীয় ঢঙে তৈরি করা হয়েছে।

ব্রাসেলসের সিটি সেন্টারে যাতায়াতকারী এই অ্যান্ডারসন গাড়িটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিঃশব্দ এবং পরিবেশবান্ধব, যা আধুনিক ব্রাসেলসের পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। গাড়িটির সামনে বসানো বড় কাঁচের ল্যাম্পগুলো যেন সেই আদি যুগের মায়াবী রাস্তার আবহ তৈরি করছে। গাড়িটির পেছনের অংশে থাকা ‘BXL’ সম্বলিত বেলজিয়ামের লাইসেন্স প্লেট একে বর্তমান সময়ের সাথে যুক্ত করেছে। দর্শনার্থীরা গ্র্যান্ড প্লেসের কারুকার্যময় দালানগুলোর সামনে এই জাদুকরী উদ্ভাবন দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। এটি কেবল একটি যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের শতাব্দী প্রাচীন পরিবেশবান্ধব চিন্তার এক জীবন্ত প্রতিফলন। ইতিহাসের চাকা এভাবেই ঘুরে এসে প্রমাণ করছে যে, ভবিষ্যতের টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার শেকড় আসলে অনেক গভীরে পোঁতা ছিল।