ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এনবিআর-এর উদ্যোগ

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূল বা প্রধান কার্যালয়ের (হেড অফিস) ব্যয় হিসেবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে আসছে। এই ব্যয়ের লাগাম টানতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

সোমবার রাজস্ব ভবনে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের (ফিকি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান এই ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতি বছরই হেড অফিসের নামে অনেক টাকা ব্যয় দেখানো হয়, যা প্রতিষ্ঠানের মুনাফার পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

তবে, এনবিআর-এর এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে ফিকি। তাদের পরামর্শক ও করবিদ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, এই ধরনের ব্যয়ের যথার্থতা প্রমাণের জন্য দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTA) এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং রেগুলেশন বিদ্যমান রয়েছে। আইন থাকা সত্ত্বেও সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ যুক্তিযুক্ত হবে না। তিনি এই বিষয়ে ফিকির সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, একটি অফিস স্থাপিত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান অফিসের ব্যয় বেশি হতে পারে, যা ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতি বছরই প্রধান অফিসের ব্যয় বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই আমরা প্রধান অফিসের ব্যয়ের একটি সীমা বেঁধে দেব।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া এ বিষয়ে বলেন, প্রধান অফিসের ব্যয়ের মধ্যে অপারেশনাল, মনিটরিং, লিগ্যাল, আইটি খাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। এসব ব্যয়ের উপর সীমা বেঁধে দিলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

এদিকে, ফিকি তাদের বাজেট প্রস্তাবনায় কর্পোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে। তারা যুক্তি দেখিয়েছে যে, প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের এবং শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশের কর হার অনেক বেশি, যা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।

এনবিআর চেয়ারম্যান এই প্রস্তাবের বিষয়ে বলেন, সরকারের রাজস্ব আহরণে একটি চাপ রয়েছে। কর্পোরেট করহার কমানো হলে রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্য অন্য কোনো খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: গভীর সংকটের মুখে কূটনৈতিক তৎপরতা

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এনবিআর-এর উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১০:২৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূল বা প্রধান কার্যালয়ের (হেড অফিস) ব্যয় হিসেবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে আসছে। এই ব্যয়ের লাগাম টানতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

সোমবার রাজস্ব ভবনে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের (ফিকি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান এই ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতি বছরই হেড অফিসের নামে অনেক টাকা ব্যয় দেখানো হয়, যা প্রতিষ্ঠানের মুনাফার পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

তবে, এনবিআর-এর এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে ফিকি। তাদের পরামর্শক ও করবিদ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, এই ধরনের ব্যয়ের যথার্থতা প্রমাণের জন্য দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTA) এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং রেগুলেশন বিদ্যমান রয়েছে। আইন থাকা সত্ত্বেও সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ যুক্তিযুক্ত হবে না। তিনি এই বিষয়ে ফিকির সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, একটি অফিস স্থাপিত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান অফিসের ব্যয় বেশি হতে পারে, যা ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতি বছরই প্রধান অফিসের ব্যয় বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই আমরা প্রধান অফিসের ব্যয়ের একটি সীমা বেঁধে দেব।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া এ বিষয়ে বলেন, প্রধান অফিসের ব্যয়ের মধ্যে অপারেশনাল, মনিটরিং, লিগ্যাল, আইটি খাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। এসব ব্যয়ের উপর সীমা বেঁধে দিলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

এদিকে, ফিকি তাদের বাজেট প্রস্তাবনায় কর্পোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে। তারা যুক্তি দেখিয়েছে যে, প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের এবং শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশের কর হার অনেক বেশি, যা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।

এনবিআর চেয়ারম্যান এই প্রস্তাবের বিষয়ে বলেন, সরকারের রাজস্ব আহরণে একটি চাপ রয়েছে। কর্পোরেট করহার কমানো হলে রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্য অন্য কোনো খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন হবে।