ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনী বিল সংসদে পাস: সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া জোরদারের পথে বাংলাদেশ

দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও কার্যকর করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপলস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’ সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এই সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন আনা হবে, যা আসন্ন নির্বাচনগুলোকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সোমবার আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে এই বিলগুলো উত্থাপন করেন। তিনি জানান, সংশোধনীগুলোর মধ্যে বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের ২৭, ৩৭, ৩৯, ৮৯ ও ৯১ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পোস্টাল ব্যালট পেপারের ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মাবলী স্পষ্ট করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে আনা হয়েছে, যা আজ আইনে পরিণত হলো।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিল পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী। এরপর কণ্ঠভোটে বিলগুলো সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। বিলের আলোচনা পর্বে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান একটি শব্দগত অস্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ডেপুটি স্পিকার এবং আইনমন্ত্রীর মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপল অর্ডার ১৯৭২’ সংশোধনের জন্য ইতিপূর্বে দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল এবং সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সেগুলো উপস্থাপন করা হয়।

ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধনের তারিখ প্রতি বছর ১ জানুয়ারির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত অন্য কোনো তারিখেও নির্ধারণ করার সুযোগ তৈরি হবে। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা অনেক ভোটারকে অন্তর্ভুক্তিকরণে সাহায্য করবে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধান অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিলগুলো পাস হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেমিট্যান্স সেবায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি: ‘গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেল ইসলামী ব্যাংক

নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনী বিল সংসদে পাস: সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া জোরদারের পথে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৯:১৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও কার্যকর করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপলস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’ সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এই সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন আনা হবে, যা আসন্ন নির্বাচনগুলোকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সোমবার আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে এই বিলগুলো উত্থাপন করেন। তিনি জানান, সংশোধনীগুলোর মধ্যে বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের ২৭, ৩৭, ৩৯, ৮৯ ও ৯১ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পোস্টাল ব্যালট পেপারের ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মাবলী স্পষ্ট করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে আনা হয়েছে, যা আজ আইনে পরিণত হলো।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিল পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী। এরপর কণ্ঠভোটে বিলগুলো সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। বিলের আলোচনা পর্বে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান একটি শব্দগত অস্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ডেপুটি স্পিকার এবং আইনমন্ত্রীর মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপল অর্ডার ১৯৭২’ সংশোধনের জন্য ইতিপূর্বে দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল এবং সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সেগুলো উপস্থাপন করা হয়।

ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধনের তারিখ প্রতি বছর ১ জানুয়ারির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত অন্য কোনো তারিখেও নির্ধারণ করার সুযোগ তৈরি হবে। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা অনেক ভোটারকে অন্তর্ভুক্তিকরণে সাহায্য করবে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধান অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিলগুলো পাস হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।