ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মুসতানসিরিয়া মাদরাসা: মধ্যযুগে আরব বিশ্বের প্রথম আধুনিক আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়

ইতিহাসের পাতায় বাগদাদ এক সোনালী অধ্যায়ের নাম। দজলা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি একসময় ছিল বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র। যখন ইউরোপ অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল, তখন আব্বাসী খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাগদাদে গড়ে উঠেছিল মুসতানসিরিয়া মাদরাসা। এটি কেবল একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল আরব বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়।

হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহর নির্দেশে এই বিশাল বিদ্যাপীঠের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর ১২৩৪ খ্রিস্টাব্দে এর উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন সময়ে ১৬০টি উটের পিঠে করে বিশ্বের দুর্লভ সব পাণ্ডুলিপি ও বই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানের অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল এর আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম।

মুসতানসিরিয়া মাদরাসায় কেবল ধর্মীয় শিক্ষা নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসাবিদ্যারও নিয়মিত চর্চা হতো। এখানকার শিক্ষার্থীরা ইসলামি আইনের চারটি প্রধান মাজহাবের পাশাপাশি উচ্চতর আরবি সাহিত্য ও অলংকার শাস্ত্রেও পাণ্ডিত্য অর্জন করতেন। মধ্যযুগের এই বিদ্যাপীঠটি আজও বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির সাহসী পদক্ষেপ: বিএসএফের হুমকির কড়া জবাব, প্রশংসা কুড়াচ্ছে জওয়ানরা

মুসতানসিরিয়া মাদরাসা: মধ্যযুগে আরব বিশ্বের প্রথম আধুনিক আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০২:২২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় বাগদাদ এক সোনালী অধ্যায়ের নাম। দজলা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি একসময় ছিল বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র। যখন ইউরোপ অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল, তখন আব্বাসী খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাগদাদে গড়ে উঠেছিল মুসতানসিরিয়া মাদরাসা। এটি কেবল একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল আরব বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়।

হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহর নির্দেশে এই বিশাল বিদ্যাপীঠের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর ১২৩৪ খ্রিস্টাব্দে এর উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন সময়ে ১৬০টি উটের পিঠে করে বিশ্বের দুর্লভ সব পাণ্ডুলিপি ও বই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানের অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল এর আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম।

মুসতানসিরিয়া মাদরাসায় কেবল ধর্মীয় শিক্ষা নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসাবিদ্যারও নিয়মিত চর্চা হতো। এখানকার শিক্ষার্থীরা ইসলামি আইনের চারটি প্রধান মাজহাবের পাশাপাশি উচ্চতর আরবি সাহিত্য ও অলংকার শাস্ত্রেও পাণ্ডিত্য অর্জন করতেন। মধ্যযুগের এই বিদ্যাপীঠটি আজও বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে আছে।