ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কাউখালীর দুই সরকারি স্কুলে শিক্ষক সংকট চরমে: পাঠদান থেকে বঞ্চিত ৯০০ শিক্ষার্থী

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার দুটি প্রধান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ে মোট ৩৪টি পদের মধ্যে ২১টিই বর্তমানে শূন্য। দীর্ঘদিনের এই সংকটের ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জানা গেছে, কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এবং কেজি ইউনিয়ন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয় দুটি জাতীয়করণ করা হলেও দীর্ঘ চার দশকেও এখানে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক কাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও শূন্য থাকায় প্রতিষ্ঠান দুটির শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে কাউখালী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ ও রাজাপুর উপজেলার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয় দুটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমান দুরবস্থার কারণে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা শহরমুখী হলেও বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা না হলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে কার্যক্রম চালু রাখা হলেও শিক্ষার মান বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলা

কাউখালীর দুই সরকারি স্কুলে শিক্ষক সংকট চরমে: পাঠদান থেকে বঞ্চিত ৯০০ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ১০:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার দুটি প্রধান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ে মোট ৩৪টি পদের মধ্যে ২১টিই বর্তমানে শূন্য। দীর্ঘদিনের এই সংকটের ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জানা গেছে, কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এবং কেজি ইউনিয়ন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয় দুটি জাতীয়করণ করা হলেও দীর্ঘ চার দশকেও এখানে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক কাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও শূন্য থাকায় প্রতিষ্ঠান দুটির শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে কাউখালী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ ও রাজাপুর উপজেলার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয় দুটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমান দুরবস্থার কারণে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা শহরমুখী হলেও বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা না হলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে কার্যক্রম চালু রাখা হলেও শিক্ষার মান বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।