ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতা ও গণভোটের রায় উপেক্ষা নিয়ে এনসিপির উদ্বেগ

ন্যাশনাল কনফেডারেশন পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব বর্তমান সরকারকে স্বৈরাচারের লক্ষণ প্রকাশ করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, সরকার প্রায়শই দাবি করে যে আগামী ১৫-২০ বছরে দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না, কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন বার্তা দেয়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করা না গেলে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা রক্ষা করা না গেলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সব লক্ষণ ফুটে উঠছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই তাকে ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। কিন্তু পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রাখা হচ্ছে, যা যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণের সুযোগ তৈরি করে এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুগত প্রশাসক বানিয়ে রাখার পথ খুলে দেয়, যা সুস্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন।

আসিফ মাহমুদ ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতা ও গণভোটের রায় উপেক্ষা নিয়ে এনসিপির উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ন্যাশনাল কনফেডারেশন পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব বর্তমান সরকারকে স্বৈরাচারের লক্ষণ প্রকাশ করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, সরকার প্রায়শই দাবি করে যে আগামী ১৫-২০ বছরে দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না, কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন বার্তা দেয়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করা না গেলে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা রক্ষা করা না গেলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সব লক্ষণ ফুটে উঠছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই তাকে ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। কিন্তু পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রাখা হচ্ছে, যা যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণের সুযোগ তৈরি করে এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুগত প্রশাসক বানিয়ে রাখার পথ খুলে দেয়, যা সুস্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন।

আসিফ মাহমুদ ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।