বাংলাদেশের বিশিষ্ট সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা, সাবেক অর্থসচিব ও সাবেক মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী ১৯৮৪ ব্যাচের এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাগো নিউজের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতায় তিনি জানান, আসন্ন বাজেটে জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, অবকাঠামো খাতে গত কয়েক বছরে প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে, এখন সময় এসেছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দক্ষতা বাড়ানোর। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রযুক্তিগত ‘স্কিল ডেভেলপমেন্টে’ বিনিয়োগ বাড়িয়ে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে মুসলিম চৌধুরী এক আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে ২০-২৫টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত শতাধিক কর্মসূচিকে ‘লাইফ সাইকেল’ ভিত্তিতে ৪-৫টি বড় কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসার কথা বলেন তিনি। এতে প্রশাসনিক ব্যয় কমবে এবং একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, নীতিগত সুদের হার হঠাৎ কমিয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করলে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে যেতে পারে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জামানতনির্ভর ঋণের প্রথা ভেঙে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) এবং নারী উদ্যোক্তাদের দিকে বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। বড় কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যাংক ঋণের বদলে পুঁজিবাজার থেকে বন্ড বা শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সরকারের বড় বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনার ঝুঁকিগুলো ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে মাত্র ৭-৮ শতাংশের ঘরে। এই অবস্থায় রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করলে তা হয় ব্যাংক ঋণনির্ভর হবে, নয়তো টাকা ছাপিয়ে অর্থায়ন করতে হবে—যা মূল্যস্ফীতিকে ১২-২০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, কর-জিডিপি অনুপাত অন্তত ১ থেকে ১.৫ শতাংশ বাড়িয়ে তবেই বাজেটের আকার নির্ধারণ করা উচিত। একটি প্রগতিশীল করব্যবস্থার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে বাস্তবসম্মত, দক্ষ ও টেকসই বাজেট প্রণয়নই এখন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























