ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সিভিল সোসাইটি ও আমলাতন্ত্রের চিরাচরিত দ্বন্দ্ব: কার্যকর রাষ্ট্র গঠনে নতুন ভাবনার আহ্বান

দেশের রাজনীতিবিদদের কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের জন্য ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। গত পাঁচ দশক ধরে দেশে যে অস্থিরতা ও ভঙ্গুরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তার অন্যতম কারণ হলো জ্ঞানী ও দূরদর্শী নেতার অভাব। অনেক রাজনীতিবিদ আমলাতন্ত্রের মূল কার্যকারিতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, তারা আমলাদের কেবল দলীয় অনুগত কর্মী হিসেবে দেখেন, যারা প্রশ্নহীনভাবে নির্দেশ পালন করবে। তারা একটি পেশাদার ও দক্ষ আমলাতন্ত্রের ধারণা থেকে অনেক দূরে।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর পেশাদার আমলাতন্ত্র গঠনে গুরুত্বারোপ করেছিল, যা দেশটির অখণ্ডতা রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রে দলীয়করণ শুরু হয়, যা পেশাদারিত্ব ও দেশ গড়ার সুযোগকে সীমিত করে দেয়। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচন এই ব্যবস্থার একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিল, যার প্রভাব আজও বিদ্যমান। অন্যদিকে, ভারত ১৯৫১-৫২ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে যে মানদণ্ড তৈরি করেছিল, তার সুফল আজও জনগণ ভোগ করছে।

পাশ্চাত্য সুবিধাভোগী সিভিল সোসাইটি কেন সবসময় আমলাতন্ত্রের বিরোধিতা করে, তা নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এই রাজনৈতিক-অর্থনীতি বোঝা আমাদের দেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশে আমলাতন্ত্র বিষয়ক মানসম্পন্ন গবেষণার অভাব রয়েছে। একটি পেশাদার ও সুষ্ঠু আমলাতন্ত্র রাষ্ট্র নির্মাণে কতটা জরুরি, সে বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকও পেশাগত বিদ্বেষের কারণে আমলাতন্ত্রের ইতিবাচক দিকগুলো এড়িয়ে যান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

সিভিল সোসাইটি ও আমলাতন্ত্রের চিরাচরিত দ্বন্দ্ব: কার্যকর রাষ্ট্র গঠনে নতুন ভাবনার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশের রাজনীতিবিদদের কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের জন্য ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। গত পাঁচ দশক ধরে দেশে যে অস্থিরতা ও ভঙ্গুরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তার অন্যতম কারণ হলো জ্ঞানী ও দূরদর্শী নেতার অভাব। অনেক রাজনীতিবিদ আমলাতন্ত্রের মূল কার্যকারিতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, তারা আমলাদের কেবল দলীয় অনুগত কর্মী হিসেবে দেখেন, যারা প্রশ্নহীনভাবে নির্দেশ পালন করবে। তারা একটি পেশাদার ও দক্ষ আমলাতন্ত্রের ধারণা থেকে অনেক দূরে।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর পেশাদার আমলাতন্ত্র গঠনে গুরুত্বারোপ করেছিল, যা দেশটির অখণ্ডতা রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রে দলীয়করণ শুরু হয়, যা পেশাদারিত্ব ও দেশ গড়ার সুযোগকে সীমিত করে দেয়। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচন এই ব্যবস্থার একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিল, যার প্রভাব আজও বিদ্যমান। অন্যদিকে, ভারত ১৯৫১-৫২ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে যে মানদণ্ড তৈরি করেছিল, তার সুফল আজও জনগণ ভোগ করছে।

পাশ্চাত্য সুবিধাভোগী সিভিল সোসাইটি কেন সবসময় আমলাতন্ত্রের বিরোধিতা করে, তা নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এই রাজনৈতিক-অর্থনীতি বোঝা আমাদের দেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশে আমলাতন্ত্র বিষয়ক মানসম্পন্ন গবেষণার অভাব রয়েছে। একটি পেশাদার ও সুষ্ঠু আমলাতন্ত্র রাষ্ট্র নির্মাণে কতটা জরুরি, সে বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকও পেশাগত বিদ্বেষের কারণে আমলাতন্ত্রের ইতিবাচক দিকগুলো এড়িয়ে যান।