ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার ১৮ নদী দখল-দূষণে বিপন্ন: অস্তিত্ব সংকটে জলজ জীবন ও সেচ ব্যবস্থা

বগুড়া জেলা জুড়ে দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কবলে পড়ে জেলার ১৮টি নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ইছামতী, করতোয়া, ইরামতিসহ জেলার অধিকাংশ নদীই নাব্য হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। কিছু নদীর গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে গেছে, আবার অনেক নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

একসময় এই নদীগুলো ছিল এলাকার কৃষি সেচের প্রধান উৎস, মৎস্যসম্পদের ভাণ্ডার এবং নৌযান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে বর্ষা মৌসুম ছাড়া নদীগুলোতে পানি থাকে না বললেই চলে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুকে কৃষকরা ফসল আবাদ করছেন, আর প্রভাবশালীরা অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলন করে লাভবান হচ্ছেন। নদী রক্ষায় সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে বাঙালি, করতোয়া, নাগর, তুলসীগঙ্গা, ইছামতী, ইরামতী, ভাদাই, মানস, ছোট যমুনা, গাবতলী, ঘড়িয়া, মরা করতোয়া, ভোলকা, বানিয়াজান, গজারিয়া, গাংনাই ও ভদ্রাবতী উল্লেখযোগ্য। এর অধিকাংশই এখন পানিশূন্য এবং নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী দখল, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং উজানের পানিপ্রবাহে বাধা—বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব—এসব সংকটের মূল কারণ। এর ফলে নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে সেগুলো খালে পরিণত হচ্ছে।

বর্ষাকালে কিছুটা পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি ও যমুনা নদীতেও এ সময় মূল প্রবাহ দেখা যায় না, বিশাল চর জেগে ওঠে এবং নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদী দখলদারদের কবলে পড়ে অনেকাংশে নালার রূপ নিয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় এসব নদী ছিল জীবিকার প্রধান উৎস। নদী থেকে মাছ ধরে বহু পরিবার সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু নদীর অবক্ষয়ের কারণে সেই পেশা এখন প্রায় বিলুপ্ত।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীগুলো রক্ষায় তারা কাজ করে যাচ্ছে। ভদ্রাবতী, সুখদহ ও বানিয়াজান নদীতে খনন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সুফল দিতে পারেনি। আংশিক খননের কারণে নদীগুলোর নাব্য পুনরুদ্ধার হয়নি। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, জেলার ১৮টি নদী ও খাল রক্ষায় ছয়টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে করতোয়া নদী উন্নয়ন এবং বাঙালি নদীর তীর সংরক্ষণ উল্লেখযোগ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

বগুড়ার ১৮ নদী দখল-দূষণে বিপন্ন: অস্তিত্ব সংকটে জলজ জীবন ও সেচ ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়া জেলা জুড়ে দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কবলে পড়ে জেলার ১৮টি নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ইছামতী, করতোয়া, ইরামতিসহ জেলার অধিকাংশ নদীই নাব্য হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। কিছু নদীর গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে গেছে, আবার অনেক নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

একসময় এই নদীগুলো ছিল এলাকার কৃষি সেচের প্রধান উৎস, মৎস্যসম্পদের ভাণ্ডার এবং নৌযান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে বর্ষা মৌসুম ছাড়া নদীগুলোতে পানি থাকে না বললেই চলে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুকে কৃষকরা ফসল আবাদ করছেন, আর প্রভাবশালীরা অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলন করে লাভবান হচ্ছেন। নদী রক্ষায় সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে বাঙালি, করতোয়া, নাগর, তুলসীগঙ্গা, ইছামতী, ইরামতী, ভাদাই, মানস, ছোট যমুনা, গাবতলী, ঘড়িয়া, মরা করতোয়া, ভোলকা, বানিয়াজান, গজারিয়া, গাংনাই ও ভদ্রাবতী উল্লেখযোগ্য। এর অধিকাংশই এখন পানিশূন্য এবং নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী দখল, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং উজানের পানিপ্রবাহে বাধা—বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব—এসব সংকটের মূল কারণ। এর ফলে নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে সেগুলো খালে পরিণত হচ্ছে।

বর্ষাকালে কিছুটা পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি ও যমুনা নদীতেও এ সময় মূল প্রবাহ দেখা যায় না, বিশাল চর জেগে ওঠে এবং নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদী দখলদারদের কবলে পড়ে অনেকাংশে নালার রূপ নিয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় এসব নদী ছিল জীবিকার প্রধান উৎস। নদী থেকে মাছ ধরে বহু পরিবার সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু নদীর অবক্ষয়ের কারণে সেই পেশা এখন প্রায় বিলুপ্ত।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীগুলো রক্ষায় তারা কাজ করে যাচ্ছে। ভদ্রাবতী, সুখদহ ও বানিয়াজান নদীতে খনন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সুফল দিতে পারেনি। আংশিক খননের কারণে নদীগুলোর নাব্য পুনরুদ্ধার হয়নি। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, জেলার ১৮টি নদী ও খাল রক্ষায় ছয়টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে করতোয়া নদী উন্নয়ন এবং বাঙালি নদীর তীর সংরক্ষণ উল্লেখযোগ্য।