ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় ইটবোঝাই ট্রাক আটকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সদর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি ছদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার মাঝেরগাঁও গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সুরমা ইউনিয়নের শরীফপুর সাইডিংঘাটের স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘কালা মিয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি ইটবোঝাই গাড়ি শরীফপুর থেকে বোগলাবাজারে যাওয়ার পথে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে ছদরুল ইসলাম আটকান। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ব্যবহার করে এবং ‘উপরের নির্দেশ’ রয়েছে দাবি করে চালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন।

কালা মিয়া এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মাসুদ রানা সোহাগ অভিযোগ করেন, ছদরুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে শত শত গাড়ি চলাচল করলেও চাঁদা না দেওয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের গাড়িটি আটকানো হয়েছে।

তবে, চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে ছদরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ইউএনও-এর নির্দেশে অতিরিক্ত মালবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধ করায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ জানান, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে প্রশাসন নিজেই তা করবে। দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার পারদ: পিএসএল ও ম্যানইউ-লিডসের মহারণ

প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় ইটবোঝাই ট্রাক আটকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সদর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি ছদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার মাঝেরগাঁও গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সুরমা ইউনিয়নের শরীফপুর সাইডিংঘাটের স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘কালা মিয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি ইটবোঝাই গাড়ি শরীফপুর থেকে বোগলাবাজারে যাওয়ার পথে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে ছদরুল ইসলাম আটকান। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ব্যবহার করে এবং ‘উপরের নির্দেশ’ রয়েছে দাবি করে চালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন।

কালা মিয়া এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মাসুদ রানা সোহাগ অভিযোগ করেন, ছদরুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে শত শত গাড়ি চলাচল করলেও চাঁদা না দেওয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের গাড়িটি আটকানো হয়েছে।

তবে, চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে ছদরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ইউএনও-এর নির্দেশে অতিরিক্ত মালবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধ করায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ জানান, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে প্রশাসন নিজেই তা করবে। দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।