একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রায় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং তা জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের মাধ্যমে একটি প্রগতিশীল কাঠামোর সূচনা হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক শাসন এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা এই ধারাবাহিকতাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। নব্বইয়ের দশকের পর গণতন্ত্র ফিরলেও সংসদ বর্জন, কার্যকর বিতর্কের অভাব এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের সংস্কৃতি সংসদকে প্রাণহীন করে তুলেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ড. হারুন রশীদ তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন যে, দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সংসদকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মঞ্চ নয়, বরং জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
কার্যকর সংসদ গঠনের জন্য লেখক ১৪টি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) আধুনিকীকরণ, প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করা। বিশেষ করে বিরোধী দলকে দমনের পরিবর্তে তাদের বিকল্প মতামতের সুযোগ দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় পদে তাদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করাকে গণতন্ত্রের ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য বলা হয়েছে। এছাড়া আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে খসড়া বিল অনলাইনে প্রকাশ ও গণশুনানির আয়োজন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারও আধুনিক সংসদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সদস্যদের জন্য শক্তিশালী গবেষণা সেল গঠন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সংসদের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে লেখক মনে করেন, কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়েও বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও সহনশীলতা। ক্ষমতাকে দলীয় স্বার্থের হাতিয়ার না ভেবে জনসেবার মাধ্যম হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একটি শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক সংসদই পারে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে। অন্যথায় অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি রাষ্ট্রকে আরও দুর্বল করে তুলবে।
রিপোর্টারের নাম 

























