ঢাকা ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ব্যাংকার্স ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ১৩তম আসর শুরু: উদ্বোধনী দিনে রান আর ছক্কার ঝড়

ব্যাংকার্স ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ১৩তম আসরের পর্দা উঠেছে। উদ্বোধনী দিনে মোট সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ১৪টি ব্যাংক দল অংশগ্রহণ করেছে। দিনভর জমজমাট লড়াইয়ে ক্রিকেটাররা রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, অসাধারণ বোলিংয়ের পাশাপাশি ছক্কার ঝড়ও দেখা গেছে।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে, টসে জিতে ফিল্ডিং নেয় আইএফআইসি ব্যাংক। প্রথমে ব্যাট করে এনআরবিসি ব্যাংক ৭ উইকেটে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আইএফআইসি ব্যাংক নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১৩০ রান করতে সক্ষম হয়, ফলে ১৮ রানের জয় লাভ করে এনআরবিসি। এই ম্যাচে ৪৯ রান করে এবং বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মিন্টু। তার ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ৭টি ছক্কাও আসে।

দ্বিতীয় ম্যাচে, রাজশাহী কৃষি ব্যাংক প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা ১২৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে ইসলামী ব্যাংক ৭ উইকেটে ১২০ রান সংগ্রহ করে। ৭ রানের জয় পায় রাজশাহী কৃষি ব্যাংক। ৩৫ রান ও ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মুস্তাক। এই ম্যাচে সোহাগ ও মুস্তাক বল হাতে দারুণ পারফর্ম করেন, এবং রিংকু সর্বোচ্চ ৬টি ছক্কা হাঁকান।

তৃতীয় ম্যাচে, ব্র্যাংক ব্যাংক ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সোনালী ব্যাংক নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৭ রান করে। জবাবে ব্র্যাংক ব্যাংক ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে ৩৬ রানের জয় পায় সোনালী ব্যাংক। ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন মতিউর। ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন আরাফাত, যিনি সর্বোচ্চ ৫টি ছক্কাও হাঁকান।

চতুর্থ ম্যাচে, প্রাইম ব্যাংক ৯ উইকেটে ১০৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ট্রাস্ট ব্যাংক ৮ উইকেটের বিনিময়ে সহজ জয় তুলে নেয়। ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মেহেদি। বল হাতে নজিব ও পাপু ভালো করলেও, মেহেদি একাই ৬টি ছক্কা হাঁকিয়ে সবার নজর কাড়েন।

পঞ্চম ম্যাচে, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২১৪ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। জবাবে আল-আরাফাহ ব্যাংক মাত্র ১০০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে থেমে যায়। ১১৪ রানের বড় জয় লাভ করে ইবিএল। ৫৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তাজকির।

ষষ্ঠ ম্যাচে, ঢাকা ব্যাংক ৬ উইকেটে ১১৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অগ্রণী ব্যাংক ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান তুলে ২ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে। ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ম্যাচসেরা হন সুমন। বল হাতে হাবিব ও শৌরভ ভালো পারফর্ম করেন। সুমন সর্বোচ্চ ৪টি ছক্কা হাঁকান।

সপ্তম ও শেষ ম্যাচে, সিটি ব্যাংক প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২১৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পূবালি ব্যাংক ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে ৭৩ রানের বড় জয় পায় সিটি ব্যাংক। ৯৭ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংসে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাব্বির। তিনি ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে সবার ওপরে ছিলেন।

সব মিলিয়ে, প্রথম দিনের ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের দাপট, বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স এবং ছক্কার বৃষ্টি টুর্নামেন্টে বাড়তি উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামীর ম্যাচগুলোর জন্য একটি দারুণ সূচনা বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্য দূর করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ব্যাংকার্স ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ১৩তম আসর শুরু: উদ্বোধনী দিনে রান আর ছক্কার ঝড়

আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ব্যাংকার্স ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ১৩তম আসরের পর্দা উঠেছে। উদ্বোধনী দিনে মোট সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ১৪টি ব্যাংক দল অংশগ্রহণ করেছে। দিনভর জমজমাট লড়াইয়ে ক্রিকেটাররা রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, অসাধারণ বোলিংয়ের পাশাপাশি ছক্কার ঝড়ও দেখা গেছে।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে, টসে জিতে ফিল্ডিং নেয় আইএফআইসি ব্যাংক। প্রথমে ব্যাট করে এনআরবিসি ব্যাংক ৭ উইকেটে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আইএফআইসি ব্যাংক নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১৩০ রান করতে সক্ষম হয়, ফলে ১৮ রানের জয় লাভ করে এনআরবিসি। এই ম্যাচে ৪৯ রান করে এবং বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মিন্টু। তার ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ৭টি ছক্কাও আসে।

দ্বিতীয় ম্যাচে, রাজশাহী কৃষি ব্যাংক প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা ১২৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে ইসলামী ব্যাংক ৭ উইকেটে ১২০ রান সংগ্রহ করে। ৭ রানের জয় পায় রাজশাহী কৃষি ব্যাংক। ৩৫ রান ও ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মুস্তাক। এই ম্যাচে সোহাগ ও মুস্তাক বল হাতে দারুণ পারফর্ম করেন, এবং রিংকু সর্বোচ্চ ৬টি ছক্কা হাঁকান।

তৃতীয় ম্যাচে, ব্র্যাংক ব্যাংক ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সোনালী ব্যাংক নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৭ রান করে। জবাবে ব্র্যাংক ব্যাংক ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে ৩৬ রানের জয় পায় সোনালী ব্যাংক। ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন মতিউর। ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন আরাফাত, যিনি সর্বোচ্চ ৫টি ছক্কাও হাঁকান।

চতুর্থ ম্যাচে, প্রাইম ব্যাংক ৯ উইকেটে ১০৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ট্রাস্ট ব্যাংক ৮ উইকেটের বিনিময়ে সহজ জয় তুলে নেয়। ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মেহেদি। বল হাতে নজিব ও পাপু ভালো করলেও, মেহেদি একাই ৬টি ছক্কা হাঁকিয়ে সবার নজর কাড়েন।

পঞ্চম ম্যাচে, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২১৪ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। জবাবে আল-আরাফাহ ব্যাংক মাত্র ১০০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে থেমে যায়। ১১৪ রানের বড় জয় লাভ করে ইবিএল। ৫৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তাজকির।

ষষ্ঠ ম্যাচে, ঢাকা ব্যাংক ৬ উইকেটে ১১৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অগ্রণী ব্যাংক ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান তুলে ২ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে। ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ম্যাচসেরা হন সুমন। বল হাতে হাবিব ও শৌরভ ভালো পারফর্ম করেন। সুমন সর্বোচ্চ ৪টি ছক্কা হাঁকান।

সপ্তম ও শেষ ম্যাচে, সিটি ব্যাংক প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২১৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পূবালি ব্যাংক ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে ৭৩ রানের বড় জয় পায় সিটি ব্যাংক। ৯৭ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংসে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাব্বির। তিনি ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে সবার ওপরে ছিলেন।

সব মিলিয়ে, প্রথম দিনের ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের দাপট, বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স এবং ছক্কার বৃষ্টি টুর্নামেন্টে বাড়তি উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামীর ম্যাচগুলোর জন্য একটি দারুণ সূচনা বলে মনে করছেন আয়োজকরা।