ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জে জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, কৃষকের চোখে জল

সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে বোরো ধানের সবুজে স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। কিন্তু প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উথারিয়া বাঁধের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জেলার অধিকাংশ হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে, যার ফলে কৃষকদের চোখে মুখে কেবলই গভীর দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার ছাপ।

সরেজমিনে হাওরগুলোতে দেখা গেছে, বুক সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পচন ধরছে ধানের থোরে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং উথারিয়া বাঁধের কারণে পানি আটকে যাওয়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, উথারিয়া বাঁধ কেটে দিলেই কেবল অবশিষ্ট ফসল রক্ষা করা সম্ভব। তবে ভিন্ন মতও রয়েছে, যার মতে এই বাঁধ অপসারণ করলে মহাসিং নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করে আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ইসলামপুর গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ১০ কেদার জমিতে বোরো চাষে তার ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতায় পুরো জমি তলিয়ে যাওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা। তার মতো একই অবস্থা জেলার প্রায় সকল হাওরের নিচু এলাকার কৃষকদের। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে কৃষকদের পথে নামার আশঙ্কা করছেন তারা। মধ্যনগর উপজেলার টগার হাওরে অর্ধেকের বেশি জমি ইতিমধ্যেই ডুবে গেছে এবং ধান পচে নষ্ট হচ্ছে। চন্দ্রসোনার তাল, সোনামড়ল, ধানকুনিয়া, রুইবিল, গুরমাসহ বিভিন্ন হাওরে একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এদিকে, সদর উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওরে কৃষকেরা নিজেরাই ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন। জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কলকতা ও হুগলির হাওরেও শত শত একর জমি জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। শনির হাওর ও টাঙ্গুয়ার হাওরের আধা পাকা ধানও ডুবতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

সুনামগঞ্জে জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, কৃষকের চোখে জল

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে বোরো ধানের সবুজে স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। কিন্তু প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উথারিয়া বাঁধের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জেলার অধিকাংশ হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে, যার ফলে কৃষকদের চোখে মুখে কেবলই গভীর দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার ছাপ।

সরেজমিনে হাওরগুলোতে দেখা গেছে, বুক সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পচন ধরছে ধানের থোরে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং উথারিয়া বাঁধের কারণে পানি আটকে যাওয়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, উথারিয়া বাঁধ কেটে দিলেই কেবল অবশিষ্ট ফসল রক্ষা করা সম্ভব। তবে ভিন্ন মতও রয়েছে, যার মতে এই বাঁধ অপসারণ করলে মহাসিং নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করে আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ইসলামপুর গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ১০ কেদার জমিতে বোরো চাষে তার ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতায় পুরো জমি তলিয়ে যাওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা। তার মতো একই অবস্থা জেলার প্রায় সকল হাওরের নিচু এলাকার কৃষকদের। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে কৃষকদের পথে নামার আশঙ্কা করছেন তারা। মধ্যনগর উপজেলার টগার হাওরে অর্ধেকের বেশি জমি ইতিমধ্যেই ডুবে গেছে এবং ধান পচে নষ্ট হচ্ছে। চন্দ্রসোনার তাল, সোনামড়ল, ধানকুনিয়া, রুইবিল, গুরমাসহ বিভিন্ন হাওরে একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এদিকে, সদর উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওরে কৃষকেরা নিজেরাই ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন। জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কলকতা ও হুগলির হাওরেও শত শত একর জমি জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। শনির হাওর ও টাঙ্গুয়ার হাওরের আধা পাকা ধানও ডুবতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।