ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রেলওয়ের শতকোটি টাকার জমি দখল সিন্ডিকেটের: বিনা টেন্ডারে বরাদ্দ!

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে রেলওয়ের শতকোটি টাকা মূল্যের জমি ভূ-বরাদ্দ নীতিমালা অমান্য করে বিনা টেন্ডারে বরাদ্দ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের আওতাধীন এসআরভি স্টেশনে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ রেলওয়ের বাণিজ্যিক শাখা, ভূ-সম্পত্তি দপ্তর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনা পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে, যেখানে কর্মচারী ও কর্মকর্তারা বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য এসব অনিয়মকে দায়ী করছেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রেলওয়ের কোনো জমি লিজ বা লাইসেন্স দিতে হলে মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদনের পর উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, রেলওয়ে ভূ-বরাদ্দ নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী, বিশেষ ক্ষেত্রে কেবল প্রকৃত রেল ব্যবহারকারীরাই অগ্রাধিকারভিত্তিতে বরাদ্দ পেতে পারে, তাও নির্দিষ্ট শর্ত ও যৌথ অনুমোদন সাপেক্ষে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়মকানুন উপেক্ষা করে এসআরভি স্টেশনের চার হাজার ৫০০ বর্গফুট খোলা জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ রেলওয়ের মালামাল পরিবহন বা সংরক্ষণের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়, যা নীতিমালার ৩১ ধারার শর্ত পূরণ করে না। তবুও প্রতিষ্ঠানটি এসআরভি স্টেশনের ছয় হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দের আবেদন করলে সিসিএম (পূর্ব) দপ্তর কোনো টেন্ডার ছাড়াই চার হাজার ৫০০ বর্গফুট তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে এই বরাদ্দ বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) চট্টগ্রাম দপ্তরে পাঠানো হলে, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তৌষিয়া আহমেদের স্বাক্ষরে ২৭ লাখ টাকা লাইসেন্স ফি জমা দেওয়ার চিঠি ইস্যু করা হয়।

তদন্ত রিপোর্টে অসঙ্গতি: প্রাপ্ত নথি যাচাই করে আরো কিছু গুরুতর অসঙ্গতি সামনে এসেছে। তদন্ত রিপোর্টে কেবল বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যা পুরো নথির জন্য যথেষ্ট নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দম’ জয় করছে আমেরিকা, ‘প্রেশার কুকার’ যাচ্ছে লন্ডনে

রেলওয়ের শতকোটি টাকার জমি দখল সিন্ডিকেটের: বিনা টেন্ডারে বরাদ্দ!

আপডেট সময় : ১১:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে রেলওয়ের শতকোটি টাকা মূল্যের জমি ভূ-বরাদ্দ নীতিমালা অমান্য করে বিনা টেন্ডারে বরাদ্দ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের আওতাধীন এসআরভি স্টেশনে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ রেলওয়ের বাণিজ্যিক শাখা, ভূ-সম্পত্তি দপ্তর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনা পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে, যেখানে কর্মচারী ও কর্মকর্তারা বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য এসব অনিয়মকে দায়ী করছেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রেলওয়ের কোনো জমি লিজ বা লাইসেন্স দিতে হলে মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদনের পর উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, রেলওয়ে ভূ-বরাদ্দ নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী, বিশেষ ক্ষেত্রে কেবল প্রকৃত রেল ব্যবহারকারীরাই অগ্রাধিকারভিত্তিতে বরাদ্দ পেতে পারে, তাও নির্দিষ্ট শর্ত ও যৌথ অনুমোদন সাপেক্ষে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়মকানুন উপেক্ষা করে এসআরভি স্টেশনের চার হাজার ৫০০ বর্গফুট খোলা জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ রেলওয়ের মালামাল পরিবহন বা সংরক্ষণের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়, যা নীতিমালার ৩১ ধারার শর্ত পূরণ করে না। তবুও প্রতিষ্ঠানটি এসআরভি স্টেশনের ছয় হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দের আবেদন করলে সিসিএম (পূর্ব) দপ্তর কোনো টেন্ডার ছাড়াই চার হাজার ৫০০ বর্গফুট তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে এই বরাদ্দ বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) চট্টগ্রাম দপ্তরে পাঠানো হলে, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তৌষিয়া আহমেদের স্বাক্ষরে ২৭ লাখ টাকা লাইসেন্স ফি জমা দেওয়ার চিঠি ইস্যু করা হয়।

তদন্ত রিপোর্টে অসঙ্গতি: প্রাপ্ত নথি যাচাই করে আরো কিছু গুরুতর অসঙ্গতি সামনে এসেছে। তদন্ত রিপোর্টে কেবল বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যা পুরো নথির জন্য যথেষ্ট নয়।