কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এক পীরকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মামুনুল হক বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি রাষ্ট্রের আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তিনি বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে বিশৃঙ্খলা, প্রতিশোধপরায়ণতা এবং অনাস্থা তৈরি করে, যা একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদি জনতা’র মতো শব্দ ব্যবহার করে দেশের বৃহৎ ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীকে সমষ্টিগতভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের একটি অপপ্রয়াস চলছে। তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় গোটা ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো অন্যায়, অযৌক্তিক এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী। তাই তিনি এ ধরনের পক্ষপাতমূলক ও উসকানিমূলক শব্দচয়ন পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
মামুনুল হক উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের সহিংস ঘটনার পেছনে অনেক সময় স্থানীয় রাজনীতি, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কুষ্টিয়ার এই ঘটনাটির ক্ষেত্রেও প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এসব দিককে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক, অনৈতিক ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বিদ্যমান, যা জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্য ইসলামিক স্কলারদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও পর্যালোচনা কমিশন গঠন করে এসব বিষয় নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু মহল এই ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনাকে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তিনি এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানান এবং দেশকে বিভাজন ও উত্তেজনার রাজনীতি থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 



















