উৎসব-পার্বণে বিশেষ করে নারীদের ওপর রান্নাঘর ও ধোয়ামোছার কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে হাতের ত্বকের ওপর। অতিরিক্ত সাবান পানি, ডিটারজেন্ট এবং ক্ষারযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্কতা, চামড়া ওঠা এমনকি একজিমার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. আসিফুজ্জামান এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বাসনকোসনের চর্বি ছাড়াতে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর, কারণ এটি ত্বককে দ্রুত শুষ্ক করে দেয়। এর পরিবর্তে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা নিরাপদ।
ধোয়ামোছার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত ডিটারজেন্ট এড়িয়ে হালকা ও ময়েশ্চারযুক্ত মৃদু সাবান বেছে নেওয়া উচিত। অনেকেই জীবাণুনাশক হিসেবে অ্যান্টিসেপটিক বা কড়া অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল তরল সরাসরি ব্যবহার করেন, যা ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। তাই এ জাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের সময় অবশ্যই হাতে গ্লাভস পরা জরুরি। কাজ শেষে হাত পরিষ্কারের সময় মৃদু হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করতে হবে এবং কোনোভাবেই হাত জোরে ঘষা বা স্ক্রাব করা যাবে না। সম্ভব হলে কিচেন গ্লাভস ব্যবহার করে পানির কাজ করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
পানির কাজ শেষ করার পর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অধ্যাপক আসিফুজ্জামানের মতে, হাত ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত এবং যতবার হাতে সাবান পানি লাগবে, ততবারই এটি পুনরাবৃত্তি করতে হবে। যারা নিয়মিত ধোয়ামোছার কাজ করেন, তাদের জন্য সাধারণ লোশনের চেয়ে ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট জাতীয় ময়েশ্চারাইজার বেশি কার্যকর, কারণ লোশনে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, খনিজ তেল বা সিরামাইড সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ত্বকের সুরক্ষায় বেশি উপকারী। দিনের সব কাজ শেষে রাতে ঘুমানোর আগে হাত ভালো করে পরিষ্কার করে পুরু স্তরে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমানো উচিত এবং প্রয়োজনে পাতলা হাতমোজা পরে নেওয়া যেতে পারে যাতে রাতে ত্বক শুকিয়ে না যায়।
তবে ঘরোয়া সতর্কতার পরেও যদি ত্বক ফেটে রক্ত বের হয়, তীব্র জ্বালাপোড়া করে কিংবা আঙুলের ফাঁকে ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ডিটারজেন্টের অ্যালার্জি থেকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি, লালচে ভাব বা একজিমা দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে সামান্য ফাটা জায়গা থেকেও জীবাণু প্রবেশ করে বড় ধরনের ইনফেকশন হতে পারে। তাই উৎসবের আনন্দ অটুট রাখতে ত্বকের এই ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রিপোর্টারের নাম 

























