দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, নৌপথে পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা এবং শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। দেশের অর্ধেকের বেশি পাম্প বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং যেগুলো সচল আছে সেগুলোতেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত নগণ্য।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক সংকটের প্রভাব পড়েছে নৌপথেও। তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নৌযান চলাচল ও মৎস্য আহরণ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে লাইটার জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা পৌঁছানো যাচ্ছে না, যার ফলে সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিপুল চাহিদার চাপে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান অবস্থা। কাঁচামাল বা ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটের কারণে গত ১৫ মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম উৎপাদন করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। বর্তমানে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এরপরও যদি নতুন চালান না আসে, তবে দেশের একমাত্র এই শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। জানা গেছে, প্রায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি আমেরিকান জাহাজ গত ২ মার্চ থেকে সৌদি আরবের তানুরা বন্দরে আটকে আছে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী হওয়ায় হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে না। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা আরেকটি জাহাজের যাত্রা পিছিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















