ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: পাঁচ দিনে আক্রান্ত ৩৯, চিকিৎসাধীন ২২

সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত পাঁচ দিনে জেলায় ৩৯ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও, এখনো ২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২২ জনের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এখানে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে এবং শিশু বিশেষজ্ঞরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।

সিওমেকের প্রিন্সিপাল ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী হাম রোগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, হাম প্রতিরোধের জন্য দ্রুতই টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি শিশুদের শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ হাঁচি, কাশি ও নিউমোনিয়া হলে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানিয়েছেন, সিলেটে হাম রোগের নমুনা পরীক্ষা হয় না, নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালী ল্যাবে পাঠানো হয়। তবে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সিলেটে হামের টিকা মজুত আছে। সন্দেহজনক শিশুদের আইসোলেশন সেন্টারে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাম নিশ্চিত হলে তাদের টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শিশুদের ছয়টি টিকার সাথে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের প্রাণহানি

সিলেটে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: পাঁচ দিনে আক্রান্ত ৩৯, চিকিৎসাধীন ২২

আপডেট সময় : ০৮:৫১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত পাঁচ দিনে জেলায় ৩৯ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও, এখনো ২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২২ জনের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এখানে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে এবং শিশু বিশেষজ্ঞরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।

সিওমেকের প্রিন্সিপাল ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী হাম রোগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, হাম প্রতিরোধের জন্য দ্রুতই টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি শিশুদের শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ হাঁচি, কাশি ও নিউমোনিয়া হলে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানিয়েছেন, সিলেটে হাম রোগের নমুনা পরীক্ষা হয় না, নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালী ল্যাবে পাঠানো হয়। তবে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সিলেটে হামের টিকা মজুত আছে। সন্দেহজনক শিশুদের আইসোলেশন সেন্টারে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাম নিশ্চিত হলে তাদের টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শিশুদের ছয়টি টিকার সাথে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়।