ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আবারও আলোচনায় গণভোট: সংসদ ও রাজপথে মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী দল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় মাস পার হলেও ‘গণভোট’ ইস্যু নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি সংসদে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হবে না বলে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সিদ্ধান্তের পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১২ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির জারি করা ৬৭ নম্বর অধ্যাদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক মিত্রদের দূরত্ব বাড়ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত সেই গণভোটে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০.৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যার মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লাখেরও বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ সূচক মত দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, যেহেতু গণভোট ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এর আর কোনো ব্যবহার নেই, তাই এই অধ্যাদেশটি বিল আকারে পাসের প্রয়োজন নেই। সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধী দলগুলো।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি নিজেদের সুবিধামতো গণভোটের রায়কে এড়িয়ে যেতে চাইছে। জামায়াত এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে ইতোমধ্যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বামপন্থী দলগুলোর নেতাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সনদের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, তার রায় বাস্তবায়ন করা বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিএনপি যদি আগের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে রাজপথে নতুন করে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণভোট ছাড়াও বিচারপতি নিয়োগ কাউন্সিল এবং দুদকের ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল জানা যাবে কোন কোন অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উত্থাপিত হবে। তবে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও আইনি জটিলতায় গণভোটের ভাগ্য এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার পারদ: পিএসএল ও ম্যানইউ-লিডসের মহারণ

আবারও আলোচনায় গণভোট: সংসদ ও রাজপথে মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী দল

আপডেট সময় : ১২:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় মাস পার হলেও ‘গণভোট’ ইস্যু নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি সংসদে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হবে না বলে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সিদ্ধান্তের পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১২ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির জারি করা ৬৭ নম্বর অধ্যাদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক মিত্রদের দূরত্ব বাড়ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত সেই গণভোটে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০.৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যার মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লাখেরও বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ সূচক মত দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, যেহেতু গণভোট ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এর আর কোনো ব্যবহার নেই, তাই এই অধ্যাদেশটি বিল আকারে পাসের প্রয়োজন নেই। সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধী দলগুলো।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি নিজেদের সুবিধামতো গণভোটের রায়কে এড়িয়ে যেতে চাইছে। জামায়াত এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে ইতোমধ্যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বামপন্থী দলগুলোর নেতাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সনদের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, তার রায় বাস্তবায়ন করা বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিএনপি যদি আগের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে রাজপথে নতুন করে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণভোট ছাড়াও বিচারপতি নিয়োগ কাউন্সিল এবং দুদকের ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল জানা যাবে কোন কোন অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উত্থাপিত হবে। তবে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও আইনি জটিলতায় গণভোটের ভাগ্য এখন অনিশ্চয়তার মুখে।