ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন অশনিসংকেত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে বাণিজ্য আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির জেরে মেইন লাইন অপারেটররা জাহাজভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের খরচকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে ইউরোপগামী কনটেইনারের ভাড়া বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে চলাচলকারী জাহাজগুলো কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে পুনরায় জাহাজভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে দেশের রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পে।

শিপিং লাইন সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে একটি ৪০ ফুট কনটেইনার পরিবহনের ভাড়া ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ ডলার। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসের শুরুতে মেইন লাইন অপারেটররা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে কোম্পানিভেদে একই কনটেইনার পরিবহনের খরচ প্রায় ২ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রগামী রুটে কৌশলগতভাবে সরাসরি ভাড়া না বাড়ালেও প্রতি কনটেইনারে ৩০০ ডলার বাংকারিং চার্জ যুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে এই রুটে একটি কনটেইনার পরিবহনে খরচ ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ডলারের মধ্যে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে। ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে এক কনটেইনার পণ্য পাঠাতে খরচ হতো ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলার, বর্তমানে সেই রুটে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। বড় শিপিং লাইনগুলো ঝুঁকি এড়িয়ে চলায় সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে এবং সেগুলোতে ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ১ হাজার ২০০ ডলারের ভাড়া এখন ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাহাজভাড়া আরও বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে শিপিং কোম্পানিগুলো। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বগতি এবং যুদ্ধ ঝুঁকিকে কারণ দেখিয়ে তারা ভাড়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যদিও নির্দিষ্ট হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে মার্চ মাসের মতো এপ্রিলেও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। মেইন লাইন অপারেটররা ইতোমধ্যে তাদের লোকাল এজেন্টদের মৌখিকভাবে এ বিষয়ে অবহিত করেছে এবং আজ মঙ্গলবার লিখিত চিঠি প্রদানের কথা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কূটনীতির মাধ্যমে ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন অশনিসংকেত

আপডেট সময় : ১১:৩০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে বাণিজ্য আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির জেরে মেইন লাইন অপারেটররা জাহাজভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের খরচকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে ইউরোপগামী কনটেইনারের ভাড়া বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে চলাচলকারী জাহাজগুলো কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে পুনরায় জাহাজভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে দেশের রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পে।

শিপিং লাইন সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে একটি ৪০ ফুট কনটেইনার পরিবহনের ভাড়া ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ ডলার। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসের শুরুতে মেইন লাইন অপারেটররা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে কোম্পানিভেদে একই কনটেইনার পরিবহনের খরচ প্রায় ২ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রগামী রুটে কৌশলগতভাবে সরাসরি ভাড়া না বাড়ালেও প্রতি কনটেইনারে ৩০০ ডলার বাংকারিং চার্জ যুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে এই রুটে একটি কনটেইনার পরিবহনে খরচ ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ডলারের মধ্যে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে। ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে এক কনটেইনার পণ্য পাঠাতে খরচ হতো ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলার, বর্তমানে সেই রুটে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। বড় শিপিং লাইনগুলো ঝুঁকি এড়িয়ে চলায় সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে এবং সেগুলোতে ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ১ হাজার ২০০ ডলারের ভাড়া এখন ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাহাজভাড়া আরও বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে শিপিং কোম্পানিগুলো। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বগতি এবং যুদ্ধ ঝুঁকিকে কারণ দেখিয়ে তারা ভাড়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যদিও নির্দিষ্ট হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে মার্চ মাসের মতো এপ্রিলেও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। মেইন লাইন অপারেটররা ইতোমধ্যে তাদের লোকাল এজেন্টদের মৌখিকভাবে এ বিষয়ে অবহিত করেছে এবং আজ মঙ্গলবার লিখিত চিঠি প্রদানের কথা রয়েছে।